এ সম্পর্কিত আরও খবর
দিনাজপুরে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিপর্যস্ত জনজীবন
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৯ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
জানুয়ারি মাসের শুরুতেই দিনাজপুরে শীতের দাপট চরম আকার ধারণ করেছে। কনকনে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। সকাল ও রাতে বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। ভোরের দিকে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কুয়াশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা।
দিনাজপুরে তাপমাত্রা কমে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে জেলায় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে নেমে এসেছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে। কুয়াশা ও শীতের তীব্রতায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঠান্ডা নিবারণে অনেককে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত প্রাণীরাও শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে।
সোমবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে রোববার তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি, শনিবার ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ১ জানুয়ারি ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি এবং ২ জানুয়ারি ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে জেলায় তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
এ শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক, কৃষিজীবী ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ। ভোরের দিকে কাজের সন্ধানে বের হতে না পারায় অনেকের দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে জীবিকার চাপ ও দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। গৃহপালিত পশুগুলোও শীতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
চিরিরবন্দরের রানীরবন্দর বাসস্ট্যান্ডে রিকশা-ভ্যানচালক রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, প্রচণ্ড শীতে ঘর থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।
কয়েকজন দিনমজুর বলেন, জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই বাইরে বের হতে হয়। ঠান্ডা তো আর পেটের কথা বোঝে না—কষ্ট যতই হোক, কাজ করতেই হবে।
গহাইর গ্রামের কৃষক আনোয়ার সাদাত জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে বোরো বীজতলা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন।
ইজিবাইক চালক সামিউল বলেন, কয়েক দিন ধরে ঠান্ডার কারণে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত যাত্রী পাওয়া যায় না। এমনিতেই ইজিবাইকের সংখ্যা বেশি, তার ওপর ঠান্ডার কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায় না। এতে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত কয়েক দিন ধরে জেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সোমবার থেকে দিনাজপুরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এবার রাত ও দিনের তাপমাত্রা কাছাকাছি থাকায় দিন-রাত সমানভাবে শীত অনুভূত হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে শীত আরও বাড়তে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ১ম তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউজ এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন