এ সম্পর্কিত আরও খবর
কুমিল্লায় একই পরিবারের ৪ জন নিহত
স্ত্রী-সন্তানসহ মুফতি মমিনের দাফন হচ্ছে শ্বশুর বাড়ির কবরস্থানে
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যাওয়ার পথে কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষক মুফতি আব্দুল মমিন নিহত হন। একইসময় তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও মারা যান। এ ঘটনায় মমিনের নিজগ্রাম নোয়াখালীর ছাতারপাইয়া ও শ্বশুর বাড়ির এলাকা লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাদ জুমআ লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামে বশাহাজী পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাযার নামাজ শেষে শ্বশুর বাড়ির কবরস্থানে মমিন ও তার স্ত্রী-সন্তানদের দাফন করার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে পাশাপাশি ৪ টি কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। লাশবাড়ি গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে আছে কবরস্থানের পাশে।
এদিকে মমিন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও তার দাফন হচ্ছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে শ্বশুর বাড়ির কবরস্থানে৷ তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মমিনের দাফন যেন তার নিজগ্রামে হয় সে দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালীর ছাতারপাইয়া গ্রামবাসী। এরপরও কয়েকজন প্রতিবেশি ছাতারপাইয়া গ্রাম থেকে তিতারকান্দি গ্রামে মমিনের জানাযায় অংশ নিতে এসেছেন বলে জানা গেছে।
মমিনের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মমিনের গ্রামে বাবার বাড়িতে জায়গা জমি নেই। এজন্য তারা সেখানে থাকতেন না। চাকরির কারণে ঢাকায় বেশি থাকতেন। ঈদে ছুটিতে এলে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন তারা। তবে নিজগ্রামে জায়গা জমি কেনার পরিকল্পনা ছিল তার।
নিহত মমিন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আইয়ুব আলী মাস্টারের বাড়ির মৃত ইউনুস মুন্সীর ছেলে। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।
নিহত অন্যরা হলেন মমিনের স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭) ও মেয়ে লাবিবা (১৮)। ঝর্ণা খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের বোন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা মারা যান। এ ঘটনায় প্রাইভেটকার চালক জামাল হোসেন (৫২) নিহত হন। তার বাড়ি বরিশাল জেলায়।
নিহত মমিনের ছাতারপাইয়া গ্রামের স্বজনরা জানায়, মমিনের বাবা স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন৷ মমিনও খুব ভালো মানুষ। দুই সন্তান ও স্ত্রীসহ মমিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এলাকাবাসী চেয়েছে ছাতারপাইয়া গ্রামেই যেন তাদের দাফন হয়। কিন্তু সেটি হলো না। নিহতদের মরদেহ মমিনের শ্বশুর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই তাদের দাফন করা হবে।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বোন, ভগ্নিপতি ও তাদের দুই সন্তান মারা গেছেন। তাদের দাফন আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে হবে। ইতিমধ্যে কবর খোঁড়াসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বাদ জুমআ জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন