এ সম্পর্কিত আরও খবর
মাছের ঘের কেটে কৃষকের জমি দখল, চোখ আরও দেড় একরে
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাছের ঘের কেটে সিরাজুল ইসলাম নামে এক কৃষকের প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকা প্রবাসী হাফিজ তোহা’র বিরুদ্ধে। সিরাজের আরও প্রায় ৪৮ শতাংশসহ আশপাশের ৫ জনের দেড় একর জমি দখলের পাঁয়তারা করছে প্রবাসী। এসব ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গেলে হাফিজের লোকজন নিরীহ মানুষের ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী সিরাজ রামগঞ্জ থানায় প্রবাসী হাফিজের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া সরেজমিনে গেলে সিরাজ ছাড়াও আবুল হাশেম, কামরুল ইসলাম, পেয়ারা খাতুন ও ইয়াছমিন সুলতানা নামে ৪ জন তাদের জমি অবৈধভাবে দখল করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত হাফিজ সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ গ্রামের শফি উল্যার ছেলে। তার মৎস্য ঘেরটি পাশ্ববর্তী লামচর ইউনিয়নের উত্তর কালিকাপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী সিরাজ লামচর ইউনিয়নের উত্তর কালিাকাপুর গ্রামের কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হাফিজ বাড়ির পাশেই সদরের উত্তর হামছাদী ও রামগঞ্জ লামচর ইউনিয়নের বর্ডারে একটি মাছের ঘের দিয়েছেন। এখন সেখানে পানি নেই। এরমধ্যেই ঘেরটি বড় করার জন্য তিনি পাশের জমি কেনার প্রস্তাব দেন মালিকদের কাছে। একপর্যায়ে ইজারা নেওয়ারও চেষ্টা করেন। তবে কেউই তার কাছে জমি বিক্রি বা ইজারা দিতে রাজি হননি। এরমধ্যে তিনি কয়েকজনের জমি কেটে ঘেরে সংযুক্ত করে নিয়েছেন। এতে সিরাজেরও প্রায় ৬ শতাংশ জমি তিনি ভেক্যু দিয়ে কেটে ঘেরে সংযুক্ত করে নেন।
অভিযোগকারী সিরাজুল ইসলাম জানান, হাফিজের ঘেরের ভেতরে আমার ৬ শতাংশ জমি রয়েছে। জোরপূর্বক তিনি তা দখল করে রেখেছেন। ঘেরের পাশেই আমার আরও ৪৮ শতাংশ জমি রয়েছে। এখন ওই জমিগুলোও তিনি দখল করতে চাচ্ছেন। ১২ জুন (শুক্রবার) জুমার নামাজের সময় সুযোগ বুঝে হাফিজ ভেক্যু মেশিন দিয়ে আমার জমির প্রায় ২৫ টি গাছ উপড়ে ফেলে এবং মাটি কেটে নেয়। গাছের দাম প্রায় আড়াই লাখ টাকা হবে। পরে আমি ও আমার ছেরে ভেক্যুর সামনে শুয়ে পড়লে তারা আর মাটি কাটতে পারেনি। বাধা দিতে গেলে লোকজন দিয়ে হুমকি-ধমকি ও হামলা চালায়। আমার জমি দখলে নিতে পারলে সে আশপাশের আরও মানুষের অন্তত এক একর জমি জোরপূর্বক দখলের সুযোগ পেয়ে যাবে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
আবুল হাশেম বলেন, ঘেরের পাশের পুরাতন রাস্তা কেটে হাফিজ এখন সরু করে ফেলছেন। যেকোন সময় তিনি আমার জমিতে ঢুকে পড়তে পারেন। আমি চাই উনি যেন আমার জমিতে না ঢোকেন।
কামরুল ইসলাম বলেন, হাফিজ মৎস্য খামার দিচ্ছে। এর পাশে সামনের অংশে আমার ২৬ শতাংশ জমি রয়েছে। ভয়ে আছি, কবে তিনি আবার জমিটি পুকুর বানিয়ে দখল করে নেয়।
ইয়াছমিন সুলতানা বলেন, হাফিজের খামারের পাশেই আমাদের ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। সে জমিটি নিয়ে যেতে চাচ্ছে। সিরাজের জমি দখল করতে পারলেই আমার সম্পত্তিতে হানা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পেয়ারা খাতুন নামে আরেক নারী বলেন, ঘর করার জন্য সিরাজের জমির পাশেই আমাদের ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমি আমরা বিক্রি করবো না। কিন্তু হাফিজ বিভিন্নভাবে পাঁয়তারা করছে জমিটি নিয়ে যাওয়ার জন্য, এতে আমরা ভয়ে আছি।
ঘটনাস্থল গিয়ে হাফিজ তোহা’র দেখা পেলেও তিনি ঘটনাটি নিয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তার দাবি, তিনি লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জমি দখল চেষ্টার ঘটনায় হাফিজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ২য় তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন