এ সম্পর্কিত আরও খবর
জুলাইয়ের কলমযোদ্ধা রায়হান থাইল্যান্ডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারী প্রতিনিধি: জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথে বুক চিতিয়ে সত্য তুলে ধরতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হয়েছিলেন নীলফামারীর অকুতোভয় সাংবাদিক রায়হান আলী। দেশের মানুষের মুক্তির জন্য কলম হাতে লড়াই করা সেই অদম্য তরুণ আজ হাসপাতালের বিছানায় নিজের জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন। দেশের মাটিতে দীর্ঘ চিকিৎসার পর একটু সুস্থতার আশায় বর্তমানে তাকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককস্থ ভেজথানি হাসপাতালে (Vejthani Hospital) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত অসহ্য যন্ত্রণা আর চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে এই কলম সৈনিকের।
গত ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে নীলফামারীর চৌরঙ্গী মোড়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন রায়হান। সে সময় পুলিশের বেপরোয়া ও নির্মম হামলার মুখে পড়েন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে নীলফামারী সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সিএমএইচের অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডক্টর হামিদ স্যারের অধীনে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর, চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়।
থাইল্যান্ডের ভেজথানি হাসপাতাল থেকে রায়হানের পরিবার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তার শরীরে ১৮টিরও বেশি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সামনে আরও কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তার শরীর এখনো পুরোপুরি সাড়া দিচ্ছে না। প্রতিটি দিন ও রাত কাটছে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও নির্ঘুম আশঙ্কায়।
সাংবাদিক রায়হান আলী তার ৭ সদস্যের পরিবারের বড় ছেলে। বাবা মো. আলী হোসেন একজন সাধারণ কৃষক, মা রাহেনা বেগম এবং স্ত্রী মোছা: রুপালি। বর্তমানে রায়হানের একমাত্র ৪ বছর বয়সী অবুঝ শিশুপুত্র লাবিব ও বৃদ্ধ বাবা-মা দিন গুনছেন চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়। বাবার পথ চেয়ে থাকা ছোট্ট লাবিবের চোখের জল আর সন্তানের সুস্থতার জন্য বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে নীলফামারী সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উত্তরা শশী পুরানা কাছারি পাড়া গ্রামের আকাশ-বাতাস।
চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে আজ নিঃস্ব এই পরিবারটি। মাথা গোঁজার শেষ সম্বল বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তাদের। অশ্রুভেজা চোখে রায়হানের পরিবার জানায়:
"রায়হান সাংবাদিকতা করতে গিয়ে, দেশ ও মানুষের কথা বলতে গিয়ে আজ পঙ্গুত্বের দোরগোড়ায়। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে আমাদের সব সম্বল শেষ। আমরা এখন দেশবাসীর দোয়া আর একটু সহযোগিতা ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।"
রায়হান আলী অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'তালাশ বিডি' এবং 'স্বদেশ বার্তা২৪'-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে সততার সাথে সাংবাদিকতা করে আসছিলেন। রায়হানের সহকর্মী ও সাংবাদিক সমাজ মনে করেন, জুলাই বিপ্লবের এই সম্মুখ যোদ্ধার পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা। অদম্য এই সাংবাদিক যেন আবার সুস্থ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় ফিরতে পারেন, সে জন্য দেশের বিত্তবান, প্রবাসী সমাজ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ২য় তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন