এ সম্পর্কিত আরও খবর
২০২০ সালে ইউজিসি অনুমোদন না থাকায় আবেদন বাতিল, একই সনদে ২০২৬ সালে এমপিও
- পঞ্চগড় প্রতিনিধি
- প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হকের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ সনদ ব্যবহার করে এমপিও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
২২ বছর ধরে কলেজটি নানা সনদ ও যোগ্যতা-সংক্রান্ত জটিলতায় এমপিওভুক্ত না হলেও চলতি বছরের জুন মাসে একই সনদের ভিত্তিতে অধ্যক্ষের এমপিও অনুমোদন পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অধ্যক্ষ একরামুল হক একাধিকবার এমপিওভুক্তির আবেদন করেন। আবেদনের সঙ্গে তিনি রাজধানীর কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত এমবিএ সনদ দাখিল করেন। তবে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা ৫৭.০৩.০০০০.০২৮.১৮.০১১.১৮-৫৭৭ নম্বর অফিস আদেশে তাঁর আবেদন বাতিল করা হয়।
ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ পদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। দাখিল করা এমবিএ সনদটি ইউজিসি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। এছাড়া এমপিও নীতিমালা-১৯৯৫ অনুযায়ী স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাষক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতার প্রমাণ, শিক্ষাগত সনদের যথাযথ যাচাই, পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ এবং ছাড়পত্রও তিনি জমা দিতে পারেননি। এসব কারণেই সে সময় তাঁর এমপিও আবেদন নাকচ করা হয়েছিল।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যে সনদ ও যোগ্যতার ঘাটতির কারণে ২০২০ সালে আবেদন বাতিল হয়েছিল, সেই একই সনদে কীভাবে চলতি বছরের জুন মাসে অধ্যক্ষ একরামুল হক এমপিওভুক্ত হলেন? বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে কথা হলে অধ্যক্ষ একরামুল হক বলেন, সব কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর আমাকে এমপিওভুক্ত করেছে।
তবে ২০২০ সালে ইউজিসি অনুমোদন না থাকার কারণে যে সনদটি গ্রহণযোগ্য হয়নি, সেটিই কীভাবে এখন গ্রহণযোগ্য হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পরে অধিদপ্তর কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করেছে।” তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো পরিপত্র বা লিখিত প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মো. খোরশেদ আলম মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরে মন্তব্য করব।
শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রশ্ন, যদি ২০২০ সালের আপত্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি না হয়ে থাকে, তাহলে একই সনদের ভিত্তিতে এমপিও অনুমোদন দেওয়া হলো কোন বিধান ও প্রক্রিয়ায়?
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ২য় তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন