এ সম্পর্কিত আরও খবর
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি - ১৩ বছর পরও ন্যায়বিচারের অপেক্ষা
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
আজ ২৪ এপ্রিল। ২০১৩ সালের এই দিনেই সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ে বদলে গিয়েছিল হাজারো মানুষের জীবন।এক মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল একটি আটতলা ভবন, আর তার ভেতরে আটকা পড়েছিলেন হাজারো পোশাক শ্রমিক।যাদের অনেকেই আর কখনোই ফিরে আসেননি।
১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সেই দিনের কান্না কি সময় মুছে দিতে পেরেছে? উত্তরটা এখনো “না”। ধ্বংসস্তূপের নিচে যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাদের অনেক পরিবারের জীবন আজও থমকে আছে। অনেক সন্তান আজও বাবার অপেক্ষায়, অনেক মা আজও মেয়ের ছবি বুকে ধরে কাঁদেন।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১,১০০ জনেরও বেশি শ্রমিক। আহত হন কয়েক হাজার। বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনাগুলোর একটি এটি।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়-দোষীদের শাস্তি কোথায়?
ঘটনার পর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত, চার্জ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ—সব মিলিয়ে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়েছে ধীরগতিতে।১৩ বছরেও মামলার রায় পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। কিছু ধাপে অগ্রগতি থাকলেও উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়া ও আইনি জটিলতায় বিচার এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। অনেকের মতে, এই দীর্ঘসূত্রতা শুধু আইনের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতির ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।
রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ শুধু একটি ভবনের পতন ছিল না। এটা ছিল শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ন্যায্যতা আর মানবাধিকারের এক ভয়াবহ বিপর্যয়।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, যখন পোশাকশিল্প এখনো দেশের অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি, তখন রানা প্লাজা আমাদের মনে করিয়ে দেয় উন্নয়নের পেছনে যেন আর কোনো জীবন হারিয়ে না যায়।
শেষে শুধু একটি কথা থেকে যা- যারা সেদিন ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে গিয়েছিল, তারা শুধু শ্রমিক ছিল ন, তারা ছিল কারও স্বপ্ন, কারও বাবা-মা, কারও সন্তান। আর তাদের জন্য ন্যায়বিচারই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ১ম তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউজ এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন