এ সম্পর্কিত আরও খবর
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ইনফান্তিনোকে চান ট্রাম্প
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের (ইউএন) পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় ট্রাম্প ও ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ট্রাম্পকে গুরুত্ব দিতে ইনফান্তিনো বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। গত ডিসেম্বরে তিনি ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম ‘পিস প্রাইজ’ (শান্তি পুরস্কার) প্রদান করেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে জানায়, ইনফান্তিনো বিশ্বজুড়ে সম্মানিত একজন ব্যক্তি এবং মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার অসাধারণ সক্ষমতা রয়েছে বলে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন।
বর্তমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে দায়িত্ব ছাড়বেন। তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এ বছরই সম্পন্ন হওয়ার কথা।
জাতিসংঘের মহাসচিব হতে হলে প্রথমে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পেতে হয়। সেখানে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি দেশ ভেটো দিলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। এরপর সাধারণ পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
তবে ইনফান্তিনো নিজে এ পদে আগ্রহী কি না, কিংবা এ বিষয়ে ট্রাম্প তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রতিবেদন বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ট্রাম্প খুব বেশি শক্তিশালী কাউকে দেখছেন না। তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বর্তমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের ‘দুর্বল’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট। তবে তার প্রার্থিতা যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসির নামও আলোচনায় রয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের আপত্তির কারণে তিনিও বাধার মুখে পড়তে পারেন।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে লাতিন আমেরিকা বা ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে কাউকে বেছে নেওয়ার প্রচলিত প্রত্যাশা ভেঙে যেতে পারে। ওই অঞ্চল থেকে সর্বশেষ মহাসচিব ছিলেন পেরুর হাভিয়ের পেরেস দে কুয়েয়ার, যিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
তবে একাধিক সূত্রের দাবি, আঞ্চলিক রীতিনীতিই ইনফান্তিনোর সবচেয়ে বড় বাধা হবে, এমনটি নিশ্চিত নয়। ট্রাম্পের সমর্থনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের সমর্থনও তিনি পেতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তুষ্ট। গত বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেন। এতে অনেকের ধারণা ছিল, তিনি জাতিসংঘের বিকল্প কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম গড়তে চান। যদিও ট্রাম্প পরে স্পষ্ট করেন, তিনি জাতিসংঘকে আরও কার্যকর দেখতে চান।
হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অবদান কমিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনেসকো এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইনফান্তিনো মহাসচিব নির্বাচিত হলে ট্রাম্প প্রশাসন ও জাতিসংঘের সম্পর্ক উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে ফিফা সভাপতির বর্তমান বার্ষিক প্রায় ৬০ লাখ ডলারের বেতন ছেড়ে জাতিসংঘের মহাসচিব হলে ইনফান্তিনোকে বড় অঙ্কের আর্থিক ছাড় দিতে হবে। কারণ এই পদের বার্ষিক বেতন প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ডলার।
ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতির নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউইয়র্ক পোস্ট থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি তিনি।
যদিও ফিফার ২১১ সদস্যদেশের অধিকাংশই তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, তবু যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইনফান্তিনো সমালোচনার মুখে পড়েন। এ ঘটনায় ইউরোপের কয়েকটি দেশ আপত্তি তুললেও পরে বিতর্ক কিছুটা স্তিমিত হয়।
এদিকে, ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজন-সংক্রান্ত ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বিতর্কিত সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারও সম্প্রতি ইনফান্তিনোকে দায়িত্ব ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ২য় তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন