এ সম্পর্কিত আরও খবর
হাম কী, হাম কীভাবে ছড়ায় এবং কেন বিপজ্জনক?
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। ছোট ছোট বাচ্চারা, বিশেষ বিশেষ করে ৫ বছরের নিচে শিশুরা হাম রোগে আক্রান্ত বেশি হয় । এটি কেবল সাধারণ র্যাশ বা ফুসকুড়ি নয়; এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়ার ও মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনকেফেলাইটিস) এর মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
হাম কীভাবে ছড়ায়?
হাম ভাইরাসের প্রবেশপথ হলো শ্বাসনালী অথবা কনজাংটিভা (চোখের পর্দা), যা প্রধানত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে (কাশি বা হাঁচি) ছড়ায়। বড় আকারের ড্রপলেট বা বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র অ্যারোসল কণার মাধ্যমে এটি ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি র্যাশ (চামড়ায় লালচে দানা) ওঠার ৩ দিন আগে থেকে শুরু করে ৪-৬ দিন পর পর্যন্ত সংক্রামক থাকেন। হামের সংস্পর্শে আসা প্রতি ১০০ জন সংবেদনশীল ব্যক্তির মধ্যে প্রায় ৯০ জনই এতে আক্রান্ত হন। আক্রান্ত ব্যক্তি কক্ষ ত্যাগ করার পরও ভাইরাসটি প্রায় ২ ঘণ্টা বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। বিমান, চিকিৎসকের চেম্বার বা হাসপাতালেও অ্যারোসলের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পরে।
হামের লক্ষণ সমূহ:
হাম একটি গুরুতর সংক্রমণ যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উচ্চ জ্বর, কাশি, সদি , চোখ ওঠা, এবং চামড়ায় দৃশ্যমান র্যাশ । ৮-১২ দিনের সুপ্তিকাল পার হওয়ার পর মৃদু জ্বর দিয়ে এর প্রারম্ভিক দশা শুরু হয়। এরপর চোখ ওঠা, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা (ফোটোফোবিয়া), সর্দি, তীব্র কাশি এবং জ্বর বৃদ্ধি পেতে থাকে। কোপলিক স্পট (ছোট সাদা/নীল দাগ), সাধারণত ৫০-৭০% রোগীর ক্ষেত্রে গালের ভেতরের অংশে প্রাক-মোলার দাঁতের সমান্তরালে প্রথম দেখা যায়। পরে তা ঠোঁট, তালু এবং মাড়িতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। র্যাশ ওঠার প্রথম দিন পর্যন্ত উপসর্গগুলো আরও তীব্র হতে থাকে। র্যাশ সাধারণত কপাল (চুলের রেখা বরাবর), কানের পেছনে এবং ঘাড়ের উপরের অংশে লালচে দানার মতো শুরু হয়। এরপর এটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বুক, পিঠ এবং হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ৫০% ক্ষেত্রে হাতের তালু ও পায়ের তলায় পৌঁছায়। মুখ এবং শরীরের উপরের অংশে র্যাশ গুলো একত্রে মিশে যেতে পারে। র্যাশ শুরু হওয়ার সাথে সাথে অন্যান্য উপসর্গগুলো কমতে থাকে। যেভাবে র্যাশ ছড়িয়েছিল, ঠিক সেই ক্রমেই প্রায় ৭ দিন পর এগুলো মিলিয়ে যায় এবং চামড়ায় হালকা খোসা উঠতে পারে। সব লক্ষণের মধ্যে কাশি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং গুরুতর ক্ষেত্রে লসিকা গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে।
রোগ নির্ণয় ও রোগ নিশ্চিতকরণ পদ্ধতি:
হামের রোগ নির্ণয় সাধারণত ক্লিনিক্যাল লক্ষণ এবং রোগীর ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করেই করা হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় শ্বেত রক্তকণিকা এবং বিশেষ করে লিম্ফোসাইটের সংখ্যা কম পাওয়া যায়।
কালচার ও পি.সি.আর: রক্ত, প্রস্রাব বা শ্বাসনালীর নিঃসরণ থেকে ভাইরাস কালচার করা যায়। এছাড়া পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন এর মাধ্যমে নাসিকা গহ্বর বা গলা থেকে নেওয়া নমুনার মাধ্যমে ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব।
সেরোলজি: রক্তে IgM অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক পদ্ধতি। র্যাশ ওঠার ১-২ দিন পর এটি রক্তে ধরা পড়ে এবং প্রায় ১ মাস পর্যন্ত থাকে। যদি র্যাশ ওঠার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করে নেগেটিভ আসে, তবে পুনরায় পরীক্ষা করা উচিত। ২-৪ সপ্তাহের ব্যবধানে দুইবার নমুনা সংগ্রহ করেIgGঅ্যান্টিবডির চারগুণ বৃদ্ধি দেখেও রোগ নিশ্চিত করা যায়।
হামের প্রধান জটিলতাসমূহ:
১. নিউমোনিয়া: এটি হামে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এটি সরাসরি ভাইরাসের কারণে অথবা পরবর্তীতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে হতে পারে।
২. শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা: শিশুদের ক্ষেত্রে ক্রুপ (Croup), ট্রাকাইটিস এবং ব্রঙ্কিওলাইটিস সাধারণ সমস্যা, যা অনেক সময় কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের (Ventilator) প্রয়োজন তৈরি করে।
৩. ভিটামিন-এ অভাব: ভিটামিন-এ কমে গিয়ে শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
৪. পাকস্থলী ও অন্ত্রের সমস্যা: বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক। তীব্র ডায়েরিয়া এবং বমি খুব সাধারণ যার ফলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এছাড়াও অ্যাপেন্ডিসাইটিস বা পেটে ব্যথা হতে পারে।
৫. কানের সংক্রমণ: কানের মধ্যবর্তী অংশে সংক্রমণ হামের সবচেয়ে সাধারণ জটিলতা। এছাড়া সাইনাসাইটিসও হতে পারে।
৬. স্নায়বিক জটিলতা: প্রতি ১,০০০ জন আক্রান্তের মধ্যে ১-৩ জন এনসেফালিটিসে (মস্তিষ্কের প্রদাহ) আক্রান্ত হতে পারেন। এর ফলে খিঁচুনি, অচেতন অবস্থা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যারা বেঁচে থাকেন, তাদের অনেকের শ্রবণশক্তি হ্রাস বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে।
৭. অন্যান্য: গর্ভাবস্থায় হাম হলে গর্ভপাত বা মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া বিরল ক্ষেত্রে 'ব্ল্যাক মিজলস' বা রক্তক্ষরণজনিত হাম হতে পারে।
কাদের ক্ষেত্রে হামের জটিলতা ঝুঁকি বেশি?
- ৫ বছরের কম (বিশেষ করে ১ বছরের কম) বয়সীদের মধ্যে হামজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
- যে সকল শিশুর তীব্র পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত।
- যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম
- গর্ভবতি মহিলা
হামের চিকিৎসা পদ্ধতি:
হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি অনুমোদিত নেই, তাই এর চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক।
১. পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার নিশ্চিত করা, বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া । তীব্র পানিশূন্যতায় শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া হতে পারে।
২. আরামের জন্য এবং জ্বর কমাতে অ্যান্টিপাইরেটিক (যেমন- প্যারাসিটামল) ব্যবহার করা হয়।
৩. শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন এবং তীব্রতা অনুযায়ী প্রয়োজনে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়।
৪. ভিটামিন-এ হামের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।WHOএর পরামর্শ অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত সব শিশুকে ভিটামিন- এ দেওয়া উচিত। এটি অসুস্থতার তীব্রতা এবং মৃত্যুর হার কমায়। বয়স অনুযায়ী টানা ২ দিন ভিটামিন-এ দিতে হবে এবং ভিটামিন-এ অভাবজনিত লক্ষণ থাকলে ২-৪ সপ্তাহ পরে তৃতীয় একটি ডোজ দেওয়া হয়।
৫. হাম ভাইরাসজনিত হওয়ায় সাধারণ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না, তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমার কারনে নিউমোনিয়া বা কানের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়।
৬. যদি হাম আক্রান্ত শিশু খেতে না পারে, শ্বাসকষ্ট হয়, খিঁচুনি হয় বা অচেতন হয়ে পড়ে, তবে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
হামের সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং টিকাদান:
হামের রোগীরা ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ৭ দিন পর থেকে শুরু করে র্যাশ (চামড়ায় দানা) ওঠার ৪-৬ দিন পর পর্যন্ত ভাইরাস ছড়াতে পারেন। এই সময়ে কোনো সংবেদনশীল ব্যক্তিকে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা থেকে বিরত রাখা (আইসোলেশন) উচিত। হাসপাতালে এই সময়ের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড এবং বাতাসবাহিত সংক্রমণ রোধের ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা পুরো অসুস্থতার সময়জুড়ে ভাইরাস ছড়াতে পারেন, তাই তাদের ক্ষেত্রে রোগ সেরে না যাওয়া পর্যন্ত আইসোলেশন বা আলাদা রাখা প্রয়োজন।
হামের টিকা (Vaccine): হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায় হলো টিকাদান। বাংলাদেশে সাধারণত, হাম-রুবেলা (MR) ও হাম-মাম্পস-রুবেলা (MMR) নামে দুই ধরনের টিকা হিসেবে পাওয়া যায়। প্রথম ডোজ ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়। তবে প্রথম ডোজের ৩০ দিন পর, যেকোনো সময় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যেতে পারে। মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির উপস্থিতির কারণে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে টিকার কার্যকারিতা কিছুটা কম হতে পারে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনেক শিশু ৬ মাস বয়সেই মায়ের অ্যান্টিবডি হারিয়ে ফেলছে এবং হামের ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই ৬ মাস হতে ৯ মাসের মধ্যে অতিরিক্ত একটি ডোজ দেওয়া যেতে পারে। যে শিশুরা ৯ মাস হওয়ার আগেই প্রথম ডোজ পায়, তাদেরকে পরবর্তীতে অবশ্যই আরও দুটি ডোজ, একটি ৯ মাসে এবং অন্যটি ১৫ মাসে দেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি:
২০২৫-২০২৬ সালে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায়ই ছয় হাজারের বেশী শিশু হামরোগে আক্রান্তে হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং শতাধিক শিশু মৃত্যু বরণ করেছেন।
বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণ:
বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির মূল কারণ হলো টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, যার ফলে লক্ষ লক্ষ শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশে ২০২৬ সালে হামরোগ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত টিকাদানের ঘাটতি এবং ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে ভীতি বা উদাসীনতার ফল। এছাড়াও, কোভিড-১৯ জনিত টিকাদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়া এবং মহামারী চলাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড মোকাবিলায় নিয়োজিত থাকায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়েছিল, অনেক শিশু তাদের প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ হামের টিকা পায়নি, ফলে তাদের শরীরে হামের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। বাংলাদেশে, বিশেষ করে দুর্গম বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, হামের টিকার কভারেজ কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সঠিক সময়ে টিকা দিচ্ছেন না বা টিকার গুরুত্ব ভুলে যাচ্ছেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ ছাড়াও টিকা সম্পকে ভিত্তিহীন প্রপাগান্ডা, বর্তমান এই অবস্থার জন্য দায়ী।
বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরনের উপায়:
বাংলাদেশ সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ টিকাদান অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছে। হাত ধোয়া, শিশুদেরকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো, মাস্ক পরা এবং ভীড় এরিয়ে চলা উচিত। টিকার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবারকে সচেতন করা ও বেশি বেশি প্রচার করা; বিশেষ করে মসজিদের ইমাম, মাদ্ররাসার শিক্ষক, স্কুলের শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনীধি ও সোসাল মিডিয়ায় কন্টন্টেন ত্রিুয়েটারদের নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষন ও প্রচারের ব্যবস্থা করা। সংক্ষেপে, হাম প্রতিরোধে সময়মতো টিকা নেওয়া এবং আক্রান্ত হলে ভিটামিন-এ নিশ্চিত করা ও বিপদচিহ্নগুলোর দিকে নজর রেখে জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎকের পরামর্শ নেওয়া অতিব গুরুত্বপূর্ন।
লেখক:
ডা: মো. আবু তালহা
এমবিবিএস. এফসিপিএস (শিশুরোগ)
ফেলো পেডিয়াট্রিক্য্র ইনটেনসিভ এন্ড
ত্রিুটিক্যাল কেয়ার (এ.আই.এম.এস, ইন্ডিয়া)
সহকারী অধ্যাপক, পেডিয়েট্রিক্স্য কার্ডিয়াক ত্রিুটিকাল কেয়ার,
এন.এইচ.এফ.এইচ এন্ড আর.আই. ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন