এ সম্পর্কিত আরও খবর
পয়লা বৈশাখ বাংলার সেকুলার উৎসব
- ডা.উজ্জ্বল কুমার রায়
- প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
আমাদের দেশে তিনটি নববর্ষ আসে। ধর্ম কর্ম ও মর্ম।ধর্ম হিজরী নববর্ষ যা ঘটা করে পালন করা তো হয়ই না কবে আসে কবে যায় সেটাই সবাই টের পাই কি না সন্দেহ।কর্ম মূলত ইংরেজি নববর্ষ। তার বিদায় ও আগমনী - উভয়ের প্রভার অর্থনৈতিক ক্ষেএেও স্বাস্থ্যবান বটে।বাঁকি রইলো বাঙালীর মর্ম বাংলা নববর্ষ। বাঙালী নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল আর পরের দিন ১৫ এপ্রিল মাঝখানে বেচারা ১৪ এপ্রিল বর্ষপঞ্জীতে লালে আবদ্ধ থাকলে পহেলা বৈশাখে কোনঠাসা।বাংলা ভাষার জন্ম যেহেতু সংস্কৃতি থেকে তাই সবকিছুই সনাতনী কিংবা হিন্দুয়ানী মনে হয়।আর তাতেই একদল এটিকে নিয়ে যারপরনাই বিরক্ত। যাই হোক তাদের রাষ্ট্রের ছুটি ভোগ- উৎসব ভাতা ভোগে আপওি নাই।
এমনকি পোষাক থেকে মন্ডা- মিঠাই সবই চলে তবুও.. টুকরো মিটেল হাতবদল হয়ে বাংলার আঙিনায় হাজির বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আবেগ, যোজনা, ভালোবাসা, ভালোবাসার পয়লা বৈশাখ। পয়লা বৈশাখ। শুভ নববর্ষ। আর-বাঙালির বছর বদলের উৎসব। বাঙালির বাঙালির অতীত করার দিন। বাঙালির কাছে এই দিনটি পুরাতন বছরের সমস্ত রিক্ততা, ক্ষুধা ও ম্লানতাকে ধুয়ে মুছে ফেলে নতুন বছরকে আহ্বান করার অঙ্গীকার। দরী বাঙালির মূলেতে ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও সমস্ত বাধা-বিপত্তিকে সরিয়ে দিয়ে একদিনের জন্য বাঙালি আপাদ-মাস্তক সুয়ম্বি হয়ে ওঠে পয়লা বৈশাখে।
বাংলা সনের জন্মবৃত্তান্ত, রাজা শশাঙ্ক না সম্রাট আকবরের আমলে, সেটি তাত্ত্বিক আলোচনা না হয় অন্য অবসরে বাঙালির ঐতিহ্য মেলাতে করা যাবে। বরং বৈশাখের আগমনে আসুন সবাই একসাথে গলা মেলাই- ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো'। কাঁচি-ধর্ম-বর্ণ-রাজনীতির ভেদাভেদ ভুলে বাঙালির বৃহত্তর পরিচর্যা আজ মেতে উঠেছে বর্ণিল বাসনায়। বাংলা সেকুতার উৎসবের তো বড় বিজ্ঞাপন পয়লা বৈশাখ। ধর্ম নিরপেক্ষতা বাঙালির সংস্কৃতি ও মান্তব্যর মূল ভিত্তি। নববর্ষ বছর উৎসব সেই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে। সেইজন্যে বাংলার পুণ্য উৎসব ও উদ্দীপনায় ইতোমধ্যেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যান্য বহু নববর্ষের সাথেও সসস্মানিত হয়। এটি বাঙালিয়ানার অঙ্গীকার। রাজনৈতিক ও স্বাধাতীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে বৃহত্তর বাঙালি এখন এক সাংস্কৃতিক জাতি।
পয়লা বৈশাখ মানে বাঙালির সারা বছরের দৈনন্দিন একঘেয়েমি থেকে একটু মুক্তিয় স্বাদ। বেলা হতেই সকালে মজেলে বাংলার অন্তর্কন্দ কখিনেশানে কিনি বাই ফিরে, কুইস্ম কোটছে এক কলমের ছোঁয়া ২৫ রাকার শিক্ষাভ্যর দাপটে বার্ধক্যের হাযতে পোস্ট অফিস মমেতে, মিটসার ধর্মসংগীতও অত্যন্ত সুধন্য বেশ কাম্প করে। সেইজন্যে বাংলার পুণ্য আমদ নিরসদ্যতাকোটা ঢোকে চারায় শেওয়ালা রুবাল তুলে পুরাতন স্মৃতির ঝাপসা জমিয়ে শুভ নববর্ষের প্রত্যাশা কিপন বাঙালি সাজে আজ যথার্থই রবীন্দনাথ চতুরে ঠিক অব্যয় আর একদিনের জন্য বাঙালি হয়ে।
পয়লা বৈশাখী মেজাজে আজ বাংলা উৎসবমুখর। সম্প্রীতির সুস্মরের নান্দনিক প্রবাহের মধ্যে দিয়ে উৎসবের মহিমা বিকশিত হয়। নববর্ষকে ঘিরে বাঙালি পোশাক ও খাওয়াদাওয়ায় বাঙালিয়ানার ঐতিহ্যকে এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে পয়লা বৈশাখ মানেই পোশাক-সজ্জায় রঙের ছড়াছড়ি, তসর, সিল্ক, গরদ, জামদানি আর হাতে হাতে নতুন বাটিকের পাঞ্জাবি বা আচকান। বর্তমানের পয়লা বৈশাখ মানেই পোশাক-প্রচ্ছদে রাঙন হওয়াত, রঙীন, সাজানো, ঘটিকা দর্পন। নববর্ষ মানে নতুন শাড়ি, লাল মাটির হাতাপাখা। যদিও হাতে কম্পিউটারের অতিরিক্ত ব্যস্ত গাণাযাতে হালখাতার হাল বেশ খারাপ। ওদিকে গাজন, চড়ক, চৈত্র সংক্রান্তি পেরিয়ে দিনের নববর্ষের নতুন হুজুমে মন্দ হয়ে ওঠে বাংলার সর্বজনীন কৃষ্টি-সংস্কৃতি, আচার-উপাচারের মিলনমেলা। শহরে বিজ্ঞাপনের প্রভাবে উৎসবের মেলাবসে কালে কালে, কিন্তু গ্রাম বাংলার এখনও মোটাসুতো ছোঁয়া ঐতিহ্যি।
বর্তমান উৎসবের বাঙালি এতটাই নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি। বাংলার পারিবারিক তথা সমাজ-জীবনের জয়যাত্রাকে প্রত্যয় দিচ্ছে পয়লা বৈশাখ। আর এই ভাবধারায় সাথে লেপ্টে আছে বাঙালির নস্টালজিয়া, ভালোবাসা, ভালোলাসা। সময়ের সাথে সাথেই অভিজাত, মুদ্রাবেবে পথলীন। কাছের ছোট্ট নববর্ষ পলায়ন পুবর্ভাগ রীতিনীতি, প্রথার জায়গা দখল করছে আধুনিক অলঙ্করণ। আভিজাত্যের লাল পাড় শাড়ি, রঙিন বুটিক পাঞ্জাবি পরে প্রিপকান বাঙালি সেজে, মিষ্টির হাঁড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, স্বপ্ন বাঁধছে সেগুনতলায়, হোয়ানিপ্রান্তে, উদযাপনও হচ্ছে। পয়লা বৈশাখ যথার্থই এক বাঙালির নিজস্ব উৎসব। বাঙালির আজ যথার্থই বাঙালি সাজবার দিনটি। তাই নীল পাঞ্জাবির বদলে নতুন পাঞ্জাবির ভাজ ভেঙে, কমলালেবুর মতো চেক শার্টের বোতাম ফেটে জনতা আজ ঘাড়তড়পে গজরাটি পরে গিন্নির সঙ্গেই বাঙালিয়ানার অভিনয় করা। নহবত গান, কবিতা, আড্ডা, সুরেশত নাটক- আজ পাড়ায় পাড়ায় নীল, লাল, সবুজ, গেরুয়া সব রঙের মিলনই সোত্তোয়াকার আর এক শুভক্ষণ পরিচয়ের। হিমশৈল হতে, রয়েছে, বাঙালি খানাপিনা, কিশোর-কিশোরীর হুজুমের চাউমিন, হাসি, আবার পয়লা বৈশাখী কোলাহলের ছতি।
বিগত প্রিয় সেই পড়লি শেষ যার গঞ্জান বৈশাখ দিনটিকে রীতিমত অন্তস্থ করে নিয়েছে হৃদয়ে-মননে, বৈশাখী উৎসবকে জল দিয়েছি একটি ভবিষ্যৎমুখর কর্মিনীতে। এ-পার বাংলার আমরা প্রথম হুজুমে বাঙালিয়ানার প্রদর্শনীতে ব্যস্ত। নববর্ষ বলতে ও-পার বাংলা কোথাও যেন এক আধ্যাতাক লজ্জা পাওয়া। গরবা বৈশাখকে আমরা অনেক জয়ী একটি ছুটির দিনের মেলজটে কাটিয়ে দিই। আক্ষেপ হয়, বাঙালি পাড়ায় পৈশাখের কোটমালর গীত, মদন ওড়োর পরিকার বাইরে বের করতে পারল না। আমরা অনেকই নববর্ষের পালবে না হয়ে বাংলার জন্ম সন। বাঙালি আজ যথার্থই সেজে বসা-বিদুষী। বাড়িতে বালর ক্যানভাসে ড্রাগন হয়েই এটি পর্দা, ফুর্তি কমে শোয়া পাত্র চকচকে ইংরেজি ক্যালেন্ডার। কিন্তু মেজাজ আসলে এক টিপবে গোলমুখে মধ্যে আম-বাঙালি মনে রাখব পয়লা বৈশাখ, ২৫ শে বৈশাখ এবং ২২ শে শ্রাবণ। এটাই হওয়ার জায়গা।
সাফল্য-আগের আভিভাকতার কড়াইতে প্রেমের কোদাল দেওয়া ব্যবস্থাপনার ছায়াতেও উৎসবের কৃষ্টি শান্তি-পাঞ্জাবি পড়ে বাঙালি নতুন প্রজন্ম ভিড় জমা ক কুড়ো, মোড়ল ঘাট, ডাব-ডালহৌসি, ঘটি-ঘটি বা ঝালিখার গন্ধের ডাল নিতে নামি-দামি দোকানে। শুভ নববর্ষে এই সন্ধ্যার পাড়ার ক্লাবে সামনে ছোট্ট আড্ডায় রঙিন কন্টেন পর্নীয় সমাবেশে জড়িয়ে আসা। পালে চড়ড়তুরে সাউন্ড বক্সে বিহাইডি-শ-খাব খাব বাশির বাংলা ডিষিক্স গাহ। তারপর রাগের রওনায় থা যাই বা ঘড়ি। প্রবাদ দিয়ে জয়ের মুখোপাশী পোশাকের সাথে সুধাও আরও এক নববর্ষ ভিজে আমাদের হাসাতে আসে। পরের সকালে ঘুম ভ্লাদবে ‘একদিনের বাঙালি’র মনে হয় গত দিনটি কেমন যেন ঘোরের মধ্যে কেটে গেল। অথচ মনের কোণে আষাঢ় কাটিয়োন আগের টি-শার্ট গলিয়ে ব্যস্ত বাস্তবে।
বিজ্ঞাপনের প্রভাবে উৎসবের মধ্যে এখন আর সেই একন্ময়তা, সেই আভিজাত্য নেই। রঙ পালিয়েছে আজ অম্বশ্বর, জৌলুস আর কৃত্রিমতা। চড়কটিকে ঘিরেই আয়োজন। ফলে উৎসবের মধ্যে সেটি পূর্ণমাত্রার নেই। আবেগের চেয়ে আয়োজনের প্রচারণা বেশি। পয়লা বৈশাখ বাঙালি উদযাপনে চেয়ে কায়দা করি বেশি। পয়লা বৈশাখ নিয়ে বাঙালির এই অদ্ভুত হাসিলানা বছরের বাকি দিনগুলোতে কেমন যেন হারস্টা করে রোদে। উৎসবের চ্যাপান্টা রোদ শুকিয়ে দেয়, কিন্তু মন হতে পারে না। ‘একদিনের বাঙালিরা' রোজনামচার পরিচয় করতে না পারলে পয়লা বৈশাখ উদযাপনের সম্পূর্ণতা প্রকাশ পাবে না। পয়লা বৈশাখ হোক বাঙালির অহঙ্কার। বাঙালির প্রকৃত জাতীয় উৎসব। এক অনিন্দ্য খুশি আর এন্ময়টে হাসিতে ভরে উঠুক বাঙালির এ-পারার পয়লা বৈশাখ।
লেখক, ডা.উজ্জ্বল কুমার রায়
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন