এ সম্পর্কিত আরও খবর
রাকসু জিএস-কাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেন শিক্ষক নেতারা
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৫ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক নেতারা। গতকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) ও আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়। এ সময় আম্মারকে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানানো হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আলিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ৯ নভেম্বর দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কক্ষে তিনি বাইরের কিছু অতিথির সাথে আলাপ করছিলেন। সে সময় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক আম্মার রেজিস্ট্রারের কক্ষে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি তাকে ১০ মিনিট পর প্রবেশ করতে বলেন। সে সময় ফিশারিজ অনুষদের অধিকর্তা প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানও রেজিস্ট্রারের সাক্ষাৎ লাভের জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন। তিনিও তাকে ভেতরে অতিথি আছে বলে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু আম্মার নির্বাচিত জিএস হওয়ায় তার যেকোনো সময় প্রবেশাধিকার আছে বলে দাবি করেন। আম্মার রেজিস্ট্রার ও ডিনের অনুরোধ উপেক্ষা করে কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ জোরপূর্বক রেজিস্ট্রারের কক্ষে ঢুকে পড়েন এবং কোনো একটি ফাইলের ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করে উচ্চবাচ্য শুরু করেন ও অফিসের পরিবেশ বিঘ্নিত করেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ করে সালাহউদ্দিন আম্মারকে বলতে শোনা যায়, অফিস কক্ষে মহানগর বিএনপির প্রোগ্রাম চলছে। অথচ প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে সেখানে দেখা যায়নি। সেখানে রাজশাহী এনসিপি নেতাদের সাথে রেজিস্ট্রার মহোদয়ের মতবিনিময় সভা চলছিল, যা ফুটেজে এনসিপি নেতাদের উপস্থিতির মাধ্যমে প্রমাণিত। এ যেন বিএনপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছু প্রচার করে রাতারাতি মহানায়ক বনে যাওয়ার প্রচেষ্টার পুরনো নাটক।’
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তিনি নির্বাচিত জিএস হলেও প্রশাসনিক কাজে খবরদারি করা তার এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ। নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকে বিভিন্নভাবে প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ ও শিক্ষক লাঞ্ছনাসহ নানা কাজে সংশ্লিষ্ট থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিষয়ে নীরব থেকেছে এবং তিনি আইনের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছেন। যার ফলে তার দুঃসাহস ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার এমন কার্যকলাপে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তার এই ঘৃণিত কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত ও কলুষিত হচ্ছে। তাই তার অতীত ঘটনাবলির তদন্ত রিপোর্ট অনতিবিলম্বে প্রকাশ করে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে।’
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদের অফিসে গত ৯ নভেম্বর রাকসুর নির্বাচিত জিএস সালাউদ্দিন আম্মার কর্তৃক সংঘটিত ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জিয়া পরিষদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ করে সালাউদ্দিন আম্মারকে বারবার বলতে শোনা যায়—অফিস কক্ষে মহানগর বিএনপির প্রোগ্রাম চলছে। সেখানে রাজশাহীর এনসিপি নেতাদের সাথে রেজিস্ট্রার মহোদয়ের মতবিনিময় সভা চলছিল। যা উক্ত ফুটেজে এনসিপি নেতাদের উপস্থিতির মাধ্যমে প্রমাণিত। এ যেন বিএনপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছু প্রচার করে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা মাত্র।’
বিবৃতিতে জিয়া পরিষদের নেতারা আরও বলেন, ‘সম্মানিত রেজিস্ট্রার মহোদয় ও বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করায় জিয়া পরিষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। জিয়া পরিষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ অবস্থা নস্যাৎ করতে একটি কুচক্রী মহল সালাউদ্দিন আম্মারকে দিয়ে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ অবস্থাকে নষ্ট এবং বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার না করার জন্য সালাউদ্দিন আম্মারকে পেশাদার ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন