এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভুমিকম্পে জাবির নতুন হলগুলোতে ফাটল, শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৭ এএম
-
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ সকাল ১০.৪৯ মিনিটের দিকে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নব্য নির্মিত ছয়টি দশতলা আবাসিক হলে নতুন করে ফাটল দেখা গিয়েছে।দেয়াল ও মেঝের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা গেলে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।নব্য নির্মিত ছয়টি হলে নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তা আজ আবার আলোচনায় এসেছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাসেল ভূমিকম্পের সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বলেন, “ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সময় আমি হলের ৯ তলায় ছিলাম। হঠাৎ কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই পুরো ভবন প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে প্রচণ্ডভাবে দুলতে থাকে। প্রথম কয়েক সেকেন্ডেই বুঝে ফেলেছিলাম, এটা সামান্য কম্পন নয়—গোটা ভবন যেন একবারে নড়ে উঠেছে। সেই মুহূর্তে রুমের ভেতরের আসবাব কেঁপে উঠতে থাকে, দরজা-জানালা কাঁপতে থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়। নিচে নেমে আসার পর সবার মুখেই ভয়, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার ছাপ। কেউ মোবাইলে পরিবারকে ফোন দিচ্ছিল, কেউ আবার বন্ধুদের খুঁজছিল। পরে ভবনের দেয়াল, সিঁড়ি এবং কয়েকটি করিডোরে ফাটল দেখা যায়, যা আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে। সেই মুহূর্তটায় সত্যিই মনে হয়েছে—এ ধরনের একটি বড় বিপর্যয় আমাদের খুব কাছে দিয়েই চলে গেল।”
ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর হলগুলোর বিভিন্ন তলার শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ভবন থেকে বের হয়ে খোলা স্থানে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা জানান, তিন বছর আগে নির্মিত নতুন হলগুলোতে শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ছিল। এ পরিস্থিতিতে তারা জীবননিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় আছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ, সব আবাসিক ভবনের গাঠনিক শক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন "আজকের ভয়াবহ ভূমিকম্পে জাবির তাজউদ্দীন হল ও কাজী নজরুল হলের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা গেছে। আশ্চর্যের বিষয়, দীর্ঘদিন আগে নির্মিত পুরনো হলগুলোতে আজকের ভূমিকম্পে এখনো পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো ফাটল পাওয়া যায়নি।
অথচ নতুন হলের করিডরসহ ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটলের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। নতুন হলগুলোর এই ক্ষতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে বিগত প্রশাসনের নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কী পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছিল। নির্মাণের পাঁচ বছরও না যেতেই ১০ তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত ৬ টি হল ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, পুরনো হলগুলোর অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও মীর মোশাররফ হলকে ক'দিন আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ হলটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়াই সময়ের দাবি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এ ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলগুলোকে ভূমিকম্প থেকে ঝুঁকিমুক্ত করতে অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা"। তবে শিক্ষার্থীরা বড়ো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার কথা জানা যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন