এ সম্পর্কিত আরও খবর
জামালপুরে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌয়ালরা
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩০ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুর প্রতিবেদক: মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। সরিষা ফুলে মৌমাছি ও প্রজাপতির অবিরাম উড়াউড়ি গ্রামীণ জনপদকে করে তুলেছে আরও মুগ্ধকর। একদিকে চাষিদের ব্যস্ততা, অন্যদিকে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মৌয়ালরা। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা মৌচাষিরা সরিষার ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ফসলি জমির পাশে পোষা মৌমাছির শত শত বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন মৌয়ালরা। এসব বাক্স থেকে হাজার হাজার মৌমাছি উড়ে গিয়ে সরিষা ফুলের মাঠে মধু সংগ্রহ করছে। তবে শীতের তীব্রতা বাড়ায় বর্তমানে মধু আহরণে কিছুটা ভাটা পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের রৌমারি বিল, শ্যামপুর ইউনিয়নের কাজাইকাটা এবং ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব ছবিলাপুর এলাকায় মোট ৭৩০টি মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এসব বাক্স থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাষিরা পছন্দের সরিষা ক্ষেতের পাশে খোলা জায়গায় মৌবাক্স সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করেন। প্রতিটি বাক্সে মোম দিয়ে তৈরি ছয় থেকে সাতটি চাকের ফ্রেম রাখা হয়। এর ভেতরে থাকে একটি রানি মৌমাছি। রানির আকর্ষণে হাজারো মৌমাছি ওই বাক্সে অবস্থান করে। মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চাকের ভেতরে জমা করে, পরে সেখান থেকেই মৌচাষিরা মধু আহরণ করেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা হয়। এতে একদিকে মৌচাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে কৃষকদের সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব ছবিলাপুর এলাকায় আসা দিনাজপুরের মৌচাষি সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ২২০টি বাক্স বসিয়েছেন। এসব বাক্স স্টিল ও কাঠ দিয়ে তৈরি। বাক্সের উপরের অংশ কালো পলিথিন ও চট দিয়ে মোড়ানো থাকে। ভেতরে কাঠের তৈরি সাতটি ফ্রেমে বিশেষ কায়দায় মোমের সিট লাগানো হয়। পরে বাক্সগুলো সরিষা ক্ষেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি বাক্সে একটি করে রানি মৌমাছি রাখা হয়। রানিকে ঘিরে প্রায় তিন থেকে চার হাজার পুরুষ মৌমাছি থাকে। তারা সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চাকের ভেতরে জমা করে।
রৌমারি এলাকায় আসা সাতক্ষীরার মৌচাষি মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা কয়েকজন মিলে এখানে মধু সংগ্রহ করতে এসেছি। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময় সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তবে বর্তমানে শীত বেশি থাকায় মৌমাছি বাক্স থেকে কম বের হচ্ছে, ফলে মধু সংগ্রহও কমে গেছে।”
তিনি জানান, সরিষা ক্ষেতে ৩১০টি বাক্স বসানো হয়েছে। এসব বাক্স থেকে প্রতি আট দিনে গড়ে প্রায় দেড় হাজার কেজি মধু পাওয়া যায়। প্রতি কেজি মধু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিনা খরচে ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ একটি লাভজনক ব্যবসা। এতে একদিকে মৌচাষিরা মধু বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, “মৌমাছি মধু সংগ্রহের সময় পরাগায়ন ঘটায়, এতে সরিষার উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ফলে কৃষক ও মৌচাষি উভয়ই লাভবান হন। আমাদের পক্ষ থেকে মৌচাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন