এ সম্পর্কিত আরও খবর
ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা গ্রেফতার
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি: ঝিনাইদহে বাসে অগ্নিসংযোগ ও তেল পাম্পে ভাঙচুরের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল রোববার (৮মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্যসচিব আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হোসেন অন্তর, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, সাবেক যুগ্নআহবায়ক হুমায়ুন কবির, তাশদীদ হাসান ও রাসেল হুসাইন।
জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন ‘তাজ ফিলিং স্টেশন’-এ তেল নিতে গিয়ে কর্মচারীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব (২২)। নীরব হত্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা একই মালিকের ‘সৃজনী ফিলিং স্টেশন’-এ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। ঘটনার দিন রাত সোয়া তিনটার দিকে বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা রয়েল পরিবহনের দুটি ও জে-লাইন পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এঘটনায় রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় বাস মালিকের পক্ষে সাইফ নোমান এবং সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সকলেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝিনাইদহ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।’
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল বলেন, ‘বাসে আগুন ও ফিলিং স্টেশনে ভাংচুরের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের হওয়ার পর নিবিড় তদন্তকালে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা বলেন, ‘আমরাও চাই প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক। তবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অনেকেই নিরপরাধ। হত্যার ঘটনার চেয়ে ভাঙচুরের বিষয়টিকে বড় করে দেখা হলে তা হবে দুঃখজনক। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।’
উল্লেখ্য, শনিবার (৭ মার্চ) রাতে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে বোতলে তেল কিনতে যান যুবক ফারদিন আহম্মেদ নীরব (২২)। এ সময় পাম্পের কর্মচারীরা তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যুবক নিরব হোসেন কিছুক্ষণ পরে আবারও তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। এ সময় অন্য এক ব্যক্তিকে বোতলে তেল দিতে দেখে প্রতিবাদ করেন ওই যুবক। এরপর পাম্পের বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে নিরবকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে কর্মচারীরা। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নিরব ঝিনাইদহ শহরের সরকারি বালক বিদ্যালয়ের পাশে ফাস্টফুডের ব্যবসা করতেন। নিরব বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। নিরবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১টার দিকে শহরের আরাপপুরে ওই পাম্পমালিক হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। তারা তেল দেওয়ার মেশিনগুলো ভেঙে ফেলে। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা জে লাইন পরিবহন, রয়েল এক্সপ্রেস ও নাঈম পরিবহন নামের একটি লোকাল বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার পর রোববার (৮ মার্চ) সকালে বিক্ষুব্ধ বাসশ্রমিকেরা ঘটনার তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে ঝিনাইদহ-মাগুরা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। বন্ধ হয়ে যায় এই রুটে সকল প্রকার যানচলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বাসে আগুন দেয়ার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাসে ২ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে দেয় শ্রমিকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন