এ সম্পর্কিত আরও খবর
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হবে: বিশ্বব্যাংক
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে চলতি গ্রীষ্মেই বিশ্ব তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। শুক্রবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তিন সংস্থার প্রধানরা এ সতর্কবার্তা দেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই বৈশ্বিক তেলের মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে।
তারা আরও বলেন, এর ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এর জেরে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়।
এর আগে এপ্রিল মাসে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও আইইএ দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে সংকট মোকাবিলায় সহায়তা দিতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। শুক্রবারের বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানায়, যুদ্ধের প্রভাবে শুধু জ্বালানিই নয়, সারের দামও দ্রুত বাড়ছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারের মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগজনক, কারণ বিশ্বের অনেক অঞ্চলে বর্তমানে চাষাবাদের মৌসুম শুরু হয়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সম্প্রতি সংস্থাটির স্প্রিং মিটিংয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনতে হয়েছে। একই সঙ্গে সংকটে থাকা দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য ২ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে আইএমএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশও একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের আবেদন করেছে। এ বিষয়ে একটি সহায়তা কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিনির্ভর দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশই এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে সারের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলো কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগে পড়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন