এ সম্পর্কিত আরও খবর
ঘুরে আসতে পারেন উত্তরের ‘সমুদ্র সৈকত’ তিস্তা ব্যারেজ
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের নাম ‘তিস্তা ব্যারেজ’। নীলফামারী জেলার ডিমলা ও লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সংযোগস্থলে প্রমত্তা তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এই প্রকল্পটি আজ কেবল একটি সেচ প্রকল্পই নয়, বরং তার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কারণে এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘উত্তরের সমুদ্র সৈকত’ হিসেবে।
তিস্তা ব্যারেজ মূলত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। ১৯৩৭ সালে তৎকালীন সরকার এই পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। ১৯৯০ সালে ৬১৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৪৪টি রেডিয়াল গেট বিশিষ্ট এই ব্যারেজটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বর্তমানে এটি নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার বিস্তীর্ণ অনাবাদী জমিতে সেচ সুবিধা দিয়ে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এক নজরে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প দোয়ানী (লালমনিরহাট) ও ডালিয়া (নীলফামারী)। দৈর্ঘ্য ৬১৫ মিটার (মূল ব্যারেজ), বাইপাসসহ ৫২টি গেট, সেচ এলাকা প্রায় ৭,৫০,০০০ হেক্টর জমি।
প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে তিস্তা ব্যারেজ এক অনন্য আকর্ষণ। দিগন্তজোড়া জলরাশি, নদীর কলতান আর সবুজ বনানীর মিতালি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে শীতকালে এখানে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে, যা পাখিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য।
পর্যটকদের জন্য আকর্ষণ নৌকা ভ্রমণ নীল জলরাশিতে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর রোমাঞ্চ, প্রাকৃতিক দৃশ্য সূর্যাস্ত ও উদীয়মান সূর্যের অপরূপ দৃশ্য, পিকনিক স্পট পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ স্থান।
সাফল্যের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। উজানে ভারতের সাথে পানি বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে অনেক সময় পানি সংকট দেখা দেয়। তবে সরকার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও রাবার ড্যামের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্যবদল আরও ত্বরান্বিত হবে।
ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে রংপুর কিংবা সরাসরি নীলফামারী বা লালমনিরহাটে আসা যায়। এরপর স্থানীয় যানবাহনে ডালিয়া বা দোয়ানী মোড় হয়ে সহজেই পৌঁছানো যায় ব্যারেজ এলাকায়। শীতকাল ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়। তবে রোদ থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
তিস্তা ব্যারেজ শুধু পাথরের অবকাঠামো নয়, এটি উত্তরের মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন এবং প্রশান্তির ঠিকানা। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই অঞ্চলটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন