এ সম্পর্কিত আরও খবর
স্নিগ্ধ সবুজের মায়ায় হাতীবান্ধার শালবনে পর্যটকদের হাতছানি
- নিউজ এক্সপ্রেস প্রতিবেদক
- প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা লালমনিরহাট বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে তিস্তা আর ধরলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে নদী আর বালুচরের বাইরেও এই জেলায় রয়েছে সবুজের এক বিশাল সমারোহ। বন বিভাগের সংরক্ষিত শালবাগান আর কৃত্রিম বনায়নের মায়াবী রূপ এখন লালমনিরহাটকে পর্যটনের নতুন এক গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করে তুলছে।
হাতীবান্ধার শালবনে প্রকৃতির ছোঁয়া
জেলার পর্যটনের মূল আকর্ষণ এখন হাতীবান্ধা উপজেলার সংরক্ষিত শালবন। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই শালবাগানে দাঁড়ালে মনে হবে যেন আপনি ভাওয়াল বা মধুপুরের কোনো অরণ্যে হারিয়ে গেছেন। বিশেষ করে ফকিরপাড়া ও সিংগিমারী এলাকায় দীর্ঘ সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা শালগাছগুলোর ফাঁক দিয়ে যখন বিকেলের রোদ্দুর নামে, তখন তৈরি হয় এক অপার্থিব সৌন্দর্য। নিভৃতে সময় কাটাতে চাওয়া প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই জায়গাটি হতে পারে এক আদর্শ স্থান।

তিস্তা ব্যারেজ এলাকাটি এখন শুধু সেচ প্রকল্প নয়, বরং বন বিভাগের সার্থক বনায়নের ফলে এক মনোরম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ব্যারেজ সংলগ্ন বাঁধগুলোতে বন বিভাগের লাগানো সারি সারি গাছ আর তিস্তার নীল জলরাশি মিলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে। শীতের মৌসুমে এখানে অতিথি পাখিদের কলকাকলি এই সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়াও পাটগ্রাম থেকে দহগ্রাম পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে বন বিভাগের করা 'ব্লক প্ল্যান্টেশন' বা সামাজিক বনায়ন পর্যটকদের মুগ্ধ করে। দীর্ঘ পথ জুড়ে আকাশমণি ও মেহগনি গাছের ছায়াঘেরা রাস্তাগুলো সাইক্লিং বা লং ড্রাইভের জন্য চমৎকার। বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে নতুন করে গড়ে ওঠা বনগুলোও এখন স্থানীয় পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
যদিও এই বনগুলোকে ঘিরে এখনো পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি, তবে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সুযোগ-সুবিধা বাড়লে লালমনিরহাট হতে পারে উত্তরবঙ্গের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। স্থানীয়দের মতে, হাতীবান্ধার শালবনকে কেন্দ্র করে যদি একটি ইকো-পার্ক নির্মাণ করা যায়, তবে এটি সরকার ও স্থানীয় অর্থনীতি-উভয় ক্ষেত্রেই বড় অবদান রাখবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন