এ সম্পর্কিত আরও খবর
চট্টগ্রাম থেকে মনোনয়নের দৌড়ে যেসব বিএনপি নেত্রী এগিয়ে
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হচ্ছে আজ। এসব আসনে চট্টগ্রাম থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির অনেক নেত্রী। নির্বাচনে চট্টগ্রামের একাধিক আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা বিএনপির নেত্রীরা। কিন্তু দল থেকে মনোনয়ন পাননি। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তারা দলীয় প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন। তবে সংরক্ষিত আসনে এবার এমপি হতে চান বিএনপির এমন ত্যাগী ও কারা নির্যাতিত নেত্রীরা।
এরমধ্যে চট্টগ্রামের এক ডজন নেত্রী সংসদ-সদস্য হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তারা দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। লবিং-তদবির করতে অনেকেই এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।
মনোনয়ন দৌড়ে থাকা উল্লেখযোগ্যরা হলেন-ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর, মোসাম্মৎ শাহনেওয়াজ চৌধুরী, ফাতেমা বাদশা, জেলি চৌধুরী, মেহেরুন্নেছা নার্গিস, ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন প্রমুখ। আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন।
সূত্র জানায়, সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি পদে ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি পাচ্ছে ৩৬টি আসন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ২ অথবা ৩ জন সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসাবে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে জঙ্গি মামলায় ১০ মাস ৮ দিন কারাগারে ছিলেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। তার বাবা বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম চট্টগ্রামের হাটহাজারী আসনে টানা চারবার এমপি ছিলেন। হাটহাজারী থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার দলীয় প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন শাকিলা ফারজানা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীনকে বিজয়ী করতে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। এছাড়া দলের দুঃসময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন।
জানতে চাইলে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা যুগান্তরকে বলেন, দলের জন্য কাজ করি। দল যদি সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত করে, আমি কাজ করব। দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।
মনোনয়ন পেতে চান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত দস্তগীর চৌধুরীর স্ত্রী ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর। তিনি নগর বিএনপির শিশুবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বিএমএ’র সহসভাপতি ও ড্যাবের নেত্রী ছিলেন। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমানে।
ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর বলেন, দলের জন্য আমার স্বামীর ত্যাগ প্রশ্নাতীত। স্বামীর কারণে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রশাসন আমাকেও অনেক নির্যাতন করেছে। আমি সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসাবে মনোনয়ন চাই। আশা করি দল মূল্যায়ন করবে।
মনোনয়নের দাবিদার আরেক বিএনপি নেত্রী মোসাম্মৎ শাহনেওয়াজ চৌধুরী। তিনি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল মহিলা কমিটির মহানগরের সভানেত্রী। শ্রমিক দলের বিভাগীয় সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় মহিলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম শ্রম আদালতেরও সদস্য। তার বাবা এজেডএম ছাবের আহমদ চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন পেলে শাহনেওয়াজ চৌধুরী সমাজসেবায় এবং দলের জন্য বৃহৎ পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে উল্লেখ করেন। দল তার অতীত কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করে তাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা করছেন।
এছাড়া আরও আলোচনায় রয়েছেন-জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলি চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ।
সূত্র আরও জানায়, চট্টগ্রামে আন্দোলন-সংগ্রামে নগরীতে যে ক’জন নেত্রী সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদিকা ফাতেমা বাদশা অন্যতম। চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলি চৌধুরীও সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করেছেন। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়ন চেয়েছিলেন ফাতেমা বাদশা। কিন্তু মনোনয়ন পাননি। উত্তর জেলার মেহেরুন নেছা নার্গিস সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আমিনুর রহমান ভূঁইয়ার মেয়ে। তিনি ১৯৮২ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৯৪ সালে জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
এর পর থেকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালে উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব নেন। এছাড়া রয়েছেন চসিকের সংরক্ষিত ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী, ২৫ নম্বর রামপুর ও ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর জেসমিনা খানম। তিনিও আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকে দলীয় কার্যক্রম চালিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন