এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একটি ধর্ষণের ভয়াবহতা মনে করিয়ে দিল ‘অসসি’
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২২ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
‘মুল্ক’ এবং ‘থাপ্পড়’ এর মতো সামাজিক বার্তাবহী ছবির জন্য পরিচিত পরিচালক অনুভব সিনহা। এবার তিনি ‘অসসি’ ছবির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন সমাজের এক গুরুতর বিষয়। দিল্লির পটভূমিকায় নির্মিত এই ছবির গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং সেই আতঙ্কের গল্প, যা সমাজে প্রতিটি নারী প্রতিমুহূর্তে অনুভব করেন।
কাহিনি
‘অসসি’ ভারতে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ধর্ষণের আনুমানিক সংখ্যার দিকেই এই নাম ইঙ্গিত করে। ছবির শুরুতেই এক গা শিউরে ওঠা দৃশ্য। এক রাতে দিল্লির সুনসান এক মেট্রো স্টেশনের বাইরে থেকে পরিমা নামের (কানি কুসরুতি) এক স্কুলশিক্ষিকাকে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর চলন্ত গাড়ির মধ্যে অত্যন্ত নির্মমভাবে একে একে ধর্ষণ করে তাকে। এমনকি কার মধ্যে পুরুষত্ব বেশি, তা নিয়ে তাদের মধ্যে জোর প্রতিযোগিতা চলেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে। এরপর তারা সেই শিক্ষিকাকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় রেললাইনে ফেলে চলে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয় এক যুবক ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় অচেতন পরিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে গল্প ফিরে যায় অতীতে।
স্বামী বিনয় (মোহাম্মদ জিশান আয়ুব) ও ছেলে ধ্রুবকে নিয়ে সুখে সংসার করছিল পরিমা। বিনয় এক সুপারমার্কেটে কাজ করে। পরিমার সাজানো গোছানো সংসারে আর্থিক প্রাচুর্য না থাকলেও ভালোবাসা আর আস্থা ছিল ভরপুর। তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী পরিমার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিল বিনয়। স্ত্রীর শরীর এবং মনের দগদগে ক্ষতকে ভালোবাসা দিয়ে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিল বিনয়। এদিকে একরত্তি ধ্রুবের শিশুমন হয়তো বুঝেছিল তার মায়ের সঙ্গে চরম অন্যায় কিছু হয়েছে। তাই সে তার বাবাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছিল। ছোট্টো ধ্রুব এক রাতেই যেন অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। এরপর শুরু হয় তদন্ত। ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশি বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু তাদের আদালতে দোষী প্রমাণ করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিমার পাশে এসে দাঁড়ায় আইনজীবী রাভি (তাপসী পান্নু)।
ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবকদের মধ্যে একজনের বাবা কীভাবে নিজের অর্থবল ব্যবহার করে সিস্টেমের সঙ্গে মিলেমিশে মামলাকে ভিন্ন খাতে ঘোরানোর চেষ্টা করে, তা দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে আদালতে নির্যাতিতার পক্ষে লড়তে গিয়ে রাভিকে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বারবার পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়।
‘অসসি’ শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এটি ভারতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। ছবিটি শেষে একাধিক প্রশ্ন রাখে, কবে সেই সময় আসবে, যখন নারীরা যেকোনো সময় নিঃসংকোচে সমাজে স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে পারবে এবং নিরাপদ বোধ করবে? ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, এই সত্যটি পুরো ছবিজুড়ে দর্শককে মনে করিয়ে দেওয়া হয়। অনুভব সিনহার ‘অসসি’ নারী-পুরুষ সবার অন্তরাত্মাকে নাড়িয়ে দেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ছবির গল্পের মাধ্যমে তিনি সমাজের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। কথায় আছে, চলচ্চিত্র সমাজের আয়না, আর তার প্রভাব ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য হওয়া উচিত। এই ছবি ঠিক সেটাই করতে চেয়েছে। ‘অসসি’ ২০ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন