এ সম্পর্কিত আরও খবর
মেসেজে ‘কবুল’ বললেই কি বিয়ে হয়ে যায়?
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল যুগে বদলেছে ভালোবাসার ভাষা। অনেকে আবেগের বশে প্রিয় মানুষকে বিয়েও করে নিচ্ছে ইনবক্সে। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা এসএমএসে ‘কবুল’ বলে একে অপরকে স্বীকৃতি দিচ্ছে অনেকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অনলাইন ‘কবুল’ কি সত্যিই একটি বৈধ বিয়ের সমান? ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকাহ শাস্ত্র কী বলে?
বিয়ে শুধু আবেগ নয়, শরিয়তের চুক্তি
ইসলামে বিয়ে (নিকাহ) কেবল সম্পর্কের ঘোষণা নয়, এটি একটি বৈধ চুক্তি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো।” (সূরা আন-নিসা: ৪)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, বিয়েতে দেনমোহরসহ একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া রয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে অবিবাহিতদের বিয়ে দিয়ে দাও…” (সূরা আন-নূর: ৩২)
এখানে সামাজিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাদিসে বিয়ের শর্ত
রসূল (সঃ) বলেছেন, অভিভাবক (ওয়ালি) ছাড়া কোনো বিয়ে নেই। (আবু দাউদ, তিরমিজি)
আরেকটি হাদিসে এসেছে, দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়।(বায়হাকি)
অর্থাৎ, বিয়ের জন্য শুধু ছেলে-মেয়ের সম্মতি যথেষ্ট নয়, সাক্ষী ও অভিভাবকের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে মেসেজে ‘কবুল’ কেন যথেষ্ট নয়
মেসেজে ‘কবুল’ বলার ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েকটি শর্ত পূরণ হয় না—একই মজলিসে ইজাব-কবুল হয় না, সাক্ষীদের উপস্থিতি থাকে না, ওয়ালি বা অভিভাবকের অনুমতি নিশ্চিত থাকে না, এবং দেনমোহর স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয় না।
ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) একই সময় ও একই পরিবেশে হওয়া জরুরি। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত চ্যাটে এই শর্তগুলো সাধারণত পূরণ হয় না।
প্রযুক্তির বিয়েতে কী বলে আলেমরা
সমসাময়িক কিছু আলেম বলেন, ভিডিও কল বা অনলাইন মাধ্যমে যদি ইজাব-কবুল একই সময়ে হয়, সাক্ষীরা সরাসরি উপস্থিত থাকেন এবং সব শর্ত পূরণ হয়, তাহলে শর্তসাপেক্ষে তা বৈধ হতে পারে। তবে সাধারণ টেক্সট মেসেজে এসব শর্ত নিশ্চিত করা কঠিন, তাই সেটিকে বৈধ নিকাহ ধরা হয় না।
বাংলাদেশের আইনি বাস্তবতা
বাংলাদেশে মুসলিম বিয়ের জন্য কাজীর মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো এবং নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক ধাপ। শুধুমাত্র মেসেজে ‘কবুল’ বললে আইনের দৃষ্টিতে কোনো বিয়ে সম্পন্ন হয় না।
ভুল ধারণার ফাঁদ
অনেক তরুণ-তরুণী আবেগে মনে করেন, ‘আমরা তো কবুল বলেছি, আমরা স্বামী-স্ত্রী।’ এই ধারণা শুধু ভুলই নয়, ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
কী করবেন
বিয়ের সিদ্ধান্তে শরিয়তের নিয়ম মেনে পরিবারের সম্মতি নিন, অভিজ্ঞ আলেম বা কাজীর পরামর্শ নিন এবং সবকিছু লিখিত ও নিবন্ধিত করুন।
তাই আবেগে ইনবক্স নয়, শরিয়তের সঠিক পথে নিকাহই হতে পারে একটি নিরাপদ, সুন্দর ও বৈধ দাম্পত্য জীবনের শুরু।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন