এ সম্পর্কিত আরও খবর
পঞ্চগড়ে আহছানিয়া মিশনের ঋনকার্যক্রমে জালিয়াতি ঋন গ্রহন না করেও হুমকিতে গ্রাহক
- নিউজ এক্সপ্রেস প্রতিবেদক
- প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
পঞ্চগড়ে আহছানিয়া মিশনের প্রতিষ্টান ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভলাপমেন্ট (ডিএফইডি)’র ঋন কার্যক্রমে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এতে করে জেলা সদরের হাফিজাবাদ ইউনিয়নে বেশ কিছু গ্রাহক জালিয়াতির স্বীকার হয়েছেন।
ঋন দেওয়ার নামে মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা ছবি এবং জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করে গ্রাহকদের নামে ঋন তুলে আত্মসাৎ করেছেন । এই ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় পঞ্চগড় এরিয়া কার্য্যালয়ের তিনজন কর্মচারীর নামে ডিএফইডির জোনাল ম্যানেজার দুলাল চন্দ্র লিখিত অভিযোগ করেছেন । বর্তমানে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেছেন।
ভূক্তভোগী গ্রাহকরা জানান । আমরা হাফিজাবাদ ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকার বাসিন্দা গত তিন চার মাস আগে ডাম ফাউন্ডেশনের মাঠ কর্মচারী মামুনুর রশিদ সহ কয়েকজন খালপাড়া এলাকার নারীদের সাথে বৈঠক করে ঋন দেওয়ার কথা বলে ছবি জাতীয় পরিচয় পত্র অমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। স্ইে সাথে ঋনের বিপরীতে প্রতিজনের কাছ থেকে আট হাজার টাকা সঞ্চয় গ্রহন করেন ডিএফইডির কর্মচারী। এক সপ্তাহের মধ্যে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঋন দেওয়ার কথা বলেন । কিন্ত দুই মাস পার হলেও ঋন পাননি তারা। তবে এরই মাঝে ডাম ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার কামরুজ্জামান হিসাব রক্ষক মৌসুমি এসে আমাদের কাছে কিস্তি দাবী করেন। কিস্তি পরিশোধ না করলে মামলার হুমকিও দেন কর্মকর্তারা। এতে করে কিস্তি আতঙ্কে উদ্বেগ উৎকন্ঠা নিয়ে দিন পার করছেন ভূক্তভোগী নারী পুরুষরা।
হাফিজাবাদ ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামের ভূক্তভোগী রাসেল ইসলাম জানান আমার কাছ থেকে ঋন দেওয়ার কথা বলে আট হাজার টাকা সঞ্চয় গ্রহন করেছেন কিন্ত ঋন দেননি কতৃপক্ষ। পরে আমার কাছে কিস্তি দাবী করেন পঞ্চগড় শাখার ম্যানোজার কামরুজ্জামান। এখন আমি অসহায় আমি ডাম ফাউন্ডেশনের কর্মচারীদের বিচার চাই।
জাকির হোসেন নামে জালিয়াতির স্বীকার আরেক ভূক্তভোগী জানান মাঠ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ এবং আমকাঠাল এলাকার মাসুম নামে দুজন আমাকে ঋন দেওয়ার কথা বলে ছবি পরিচয় পত্র ফটোকপি নেন কিন্ত ঋন দেননি পরবর্তিতে ম্যানেজার কামরুজ্জামান অমার কাছে কিস্তি দাবী করেন সেই সাথে কিস্তি পরিশোধ না করলে মামলার হুমকি দেন। আমি ঋন গ্রহন না করেও ঋনি হয়ে গেছি । আমি মাঠ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ এবং ম্যানেজার কামরুজ্জমানের বিচার চাই।
একই কথা জানান ভূক্তভোগী দুলাল, খাদেমুল ইসলাম।
সরেজমিনে পঞ্চগড়ের মিঠাপুকুর এলাকায় পঞ্চগড় সদর শাখা এরিয়া ও জোনাল অফিসে যোগাযোগ করা হলে ডাম ফাউন্ডেশনের এরিয়া ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম এবং জোনাল ম্যানেজার দুলাল চন্দ্র জানান পঞ্চগড় শাখার ম্যানেজার কামরুজ্জামান হিসাব রক্ষক মৌসুমি, মাঠ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদের বিরূদ্ধে প্রান্তিক এরিয়া থেকে আমাদের কাছে ঋন নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ আসার পর। তাদের বিরূদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। হিসাব রক্ষক মৌসুমি এবং মাঠ কর্মী মামুনুর রশিদ গত কয়েকদিন থেকে অফিস থেকে পলাতক। এছাড়াও হেড অফিস থেকে একদল অডিটর মাঠ পর্যায়ে অডিট করছেন। ম্যানেজারের কামরুজ্জামানের অধীনে সকল ঋন গ্রাহকের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। অডিট রিপোর্ট দেওয়ার পর জানা যাবে আসলে কত টাকার ঋন জালিয়াতি হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান আহছানিয়া মিশনের ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভলাপমেন্ট ডিএফইডির পঞ্চগড়ের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্টানটির উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। বিষয়টি তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন