এ সম্পর্কিত আরও খবর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৩ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এটি বাঙালি জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাবিধুর ও লজ্জাজনক অধ্যায়গুলোর একটি। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের ওপর চালানো হয় নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
একাত্তরের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। স্বাধীনতার সূর্য ওঠার আগমুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা চালায়।
পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা বেছে নেয় সবচেয়ে ঘৃণ্য পথ। মহান বিজয় দিবসের মাত্র দুই দিন আগে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়, যেন স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও চিন্তাশক্তিকে ধ্বংস করা যায়।
এই হত্যাযজ্ঞের শিকার হন দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদরা। সমাজের আলোকবর্তিকাদের একযোগে নিভিয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টা ছিল ইতিহাসে বিরল।
বিজয়ের পর রাজধানীর রায়েরবাজার ও মিরপুরের বধ্যভূমিসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায় বুদ্ধিজীবীদের চোখ বাঁধা, হাত-পা বাঁধা ও ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ। সেই দৃশ্য জাতিকে গভীর শোক আর ক্ষোভে স্তব্ধ করে দেয়।
তথ্য অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বরের সেই রাতে ঢাকায় অন্তত ২০০ জন বুদ্ধিজীবীকে নিজ নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। চোখে কাপড় বেঁধে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ বিভিন্ন টর্চার সেলে।
সেখানে চালানো হয় ভয়াবহ নির্যাতন। এরপর রায়েরবাজারের ইটখোলা ও মিরপুর বধ্যভূমিতে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, শুধু ১৪ ডিসেম্বর নয়, ১৯৭১ সালের পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়েই এই হত্যাকাণ্ড চলেছে। ওই সময়ে এক হাজার থেকে দেড় হাজার বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হয়।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা এবং যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সর্বস্তরের মানুষের উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন