এ সম্পর্কিত আরও খবর
গুমে জড়িত সেনাবাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহি নিশ্চিতে সরকার দুর্বল
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
গুমের ঘটনায় সেনাবাহিনীর জড়িত সদস্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার দুর্বল অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র ও আইন সংস্কারের উদ্যোগ এখনো নাজুক পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও তার আগে সংঘটিত অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত ও বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম, অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থপাচার প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে গবেষণা করা হয়েছে।
টিআইবি জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গুমের বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতির অভিযোগও করেছে সংস্থাটি। গ্রেফতারি পরোয়ানা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ১০ জন সেনা কর্মকর্তার বিদেশে পলায়ন ঠেকাতে না পারাকে গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যদিও গুমে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সেনা কর্মকর্তাদের একটি অংশের বিচার শুরু হয়েছে, মূল হোতাদের অনেকেই এখনো বিচারের বাইরে রয়ে গেছে বলে দাবি টিআইবির।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সেনা কর্তৃত্বাধীন সেনানিবাসের ভেতরে সাবজেল বা উপ-কারাগারে রাখা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭৮৫টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলা ৮৩৭টি। এর মধ্যে ১০৬টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে, যার ৩১টি হত্যা মামলা। পতিত সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ মোট ১২৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গণ-অভ্যুত্থানে হত্যার অভিযোগে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে সারা দেশে পুলিশের বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলায় ১ হাজার ১৬৮ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৬১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি মামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চে বর্তমানে ১২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে ১০৫ জনের বেশি ব্যক্তি অভিযুক্ত।
টিআইবি আরও জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও সন্তোষজনক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কার্যপরিধি ও সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুদান বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুসরণে ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জামান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর সংশয় রয়েছে। কারণ নির্বাচনে পেশীশক্তি, অর্থ ও ধর্মের ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পালাতে যারা সহায়তা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম এবং পরিচালক (গবেষণা) মো. বদিউজ্জামান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন