এ সম্পর্কিত আরও খবর
অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো মাসব্যাপী এই আয়োজন।
তিন দফা তারিখ পরিবর্তন এবং প্রকাশকদের নানা দাবি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বইপ্রেমীদের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বর্ণিল সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ। পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।
মেলাকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সম্ভাব্য কোনো নিরাপত্তা হুমকির সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় রাখা হয়েছে কঠোর নজরদারি। বইমেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) সরওয়ার জানান, ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং চালু থাকবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি নিরাপত্তা তদারকি করবেন।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত কোনো মব বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই। তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কোনো প্রকাশনা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ টিম, ফুট প্যাট্রোল এবং মুক্তমঞ্চকেন্দ্রিক বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। প্রয়োজনে ডিবি, সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াটসহ বিশেষায়িত ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
রমজান মাসে মেলা আয়োজন নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। রুহামা পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও জ্ঞানচর্চার মাস। এমন সময়ে বইমেলা আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র মাসের মর্যাদা রক্ষা করে পাঠকরা জ্ঞান অন্বেষণে আরও মনোযোগী হবেন।
অন্যদিকে প্রগতি পাবলিকেশনের প্রকাশক আশরার মাসুদ মনে করেন, রমজানে মেলা জমে ওঠার সম্ভাবনা কম এবং এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয়েছে আলাদা পরিকল্পনা। বইমেলা চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দিন ও রাতে ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়ক সার্বক্ষণিক বন্ধ থাকবে না; দর্শনার্থীর চাপ অনুযায়ী সময়ভিত্তিক খোলা বা বন্ধ রাখা হবে।
নির্ধারিত পার্কিংয়ের জন্য ফুলার রোড, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নো-পার্কিং জোনে গাড়ি রাখলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নীলক্ষেত/ভিসি বাংলো ক্রসিং, শাহবাগ ও দোয়েল চত্বর থেকে আসা যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ইউটার্ন ও ডাইভারশন রুট ঠিক করা হয়েছে।
এ ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখতে কড়াকড়ি থাকবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আয়োজক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন