এ সম্পর্কিত আরও খবর
হাসিনা সরকার আমলের বিভিন্ন জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
সরকার নির্ধারিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত নতুন পরিপত্র জারি করা হয়েছে। আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের বেশ কয়েকটি জাতীয় দিবস বাতিলের যে সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়েছিল, নতুন বিএনপি সরকারও তা বহাল রেখেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল বুধবার (১১ মার্চ) এ পরিপত্র জারি করে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর জারি করা পরিপত্রটি এখন বাতিল করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে কয়েকটি দিবস বাতিল করেছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ আগস্ট শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস এবং ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস। নতুন সরকারও এসব দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
নতুন পরিপত্রে ৫ আগস্টকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন হিসেবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্র আবু সাঈদের স্মরণে ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন করা হবে। এ সিদ্ধান্তও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান সরকার তা বহাল রেখেছে।
পরিপত্র অনুযায়ী দিবসগুলোকে আগের মতো তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক-শ্রেণিতে থাকা জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি দিবস ও উৎসব যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হবে। খ-শ্রেণিতে ৩৭টি দিবস রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে পালিত দিবস কিংবা পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক দিবসগুলো উল্লেখযোগ্য পরিসরে পালন করা যেতে পারে।
এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা সম্পৃক্ত থাকবেন এবং অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনে সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়ার কথাও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ-শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত ৩৫টি দিবস সীমিত পরিসরে প্রতীকীভাবে পালন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদের উপস্থিতি প্রয়োজন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। এ ধরনের দিবস পালনের জন্য উন্নয়ন খাত থেকে কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, এই তিন শ্রেণির বাইরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর আরও কিছু দিবস পালন করে থাকে, যেগুলোর অনেকই গতানুগতিক বা পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমানে তেমন গুরুত্ব বহন করে না।
সরকারের সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের স্বার্থে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে এ ধরনের দিবস পালনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে পারে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন