এ সম্পর্কিত আরও খবর
নদী-জলাধার ভরাটের কারণেই ঢাকায় জলাবদ্ধতা: দুদকের সাবেক মহাপরিচালক
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতার জন্য নদী, খাল ও জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, বন্যাপ্রবণ এলাকা ভরাট এবং আইন প্রয়োগে দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী।
সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি রাজধানী থেকে নদীতে যাওয়ার প্রাকৃতিক পথ আজ প্রায় বিলুপ্ত। অবৈধভাবে জলাধার ও বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল ভরাট, অনিয়ন্ত্রিত আবাসন প্রকল্প এবং বেআইনি ছাড়পত্রের কারণে ঢাকা এখন মানবসৃষ্ট প্লাবনের শিকার।
তিনি বলেন, বৃষ্টি কোনো অভিশাপ নয়। বরং প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য এবং সভ্যতার টিকে থাকার জন্য বৃষ্টিপাত ও নদী-জলাধারের অস্তিত্ব অপরিহার্য।
মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর অভিযোগ, রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসন প্রকল্প নির্মাণে রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী সংরক্ষিত বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল, রূপগঞ্জের পূর্বাচল এবং উত্তরার কিছু অংশ ভরাট করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিমের দায়িত্বে থাকাকালে বালু নদী ভরাটের ঘটনায় প্রতীকী হিসেবে রাজউকের চেয়ারম্যানকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এছাড়া জলাশয় ও নদী দখল করে গড়ে ওঠা বহু অবৈধ আবাসন ও বাণিজ্যিক স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান, জরিমানা এবং আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে দুদকের সাবেক এই মহাপরিচালক বলেন, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় দেশে অসংখ্য আইন, বিধিমালা, প্রতিষ্ঠান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম থাকলেও কার্যকর আইন প্রয়োগে 'অমার্জনীয় অবহেলা' দেখা গেছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, গত দুই বছরে বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদীর দখল-দূষণ পরিস্থিতি কিংবা সাভার-আশুলিয়ার জলাশয় ধ্বংসের চিত্র সরেজমিনে দেখতে পরিবেশ উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সচিব বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কেউ গিয়েছেন কি না।
মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর মতে, নাগরিকদের আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর আইন প্রয়োগে ব্যর্থতার ফলে দেশে এক ধরনের 'গভর্ন্যান্স ক্রাইসিস' ও 'মোরালিটি ক্রাইসিস' তৈরি হয়েছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নদী ও জলাধার রক্ষায় নজরদারি, মনিটরিং এবং আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি, জরিমানা এবং প্রয়োজনে বেতন কর্তনের মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শাসন ও ব্যবস্থাপনার সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ২য় তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন