এ সম্পর্কিত আরও খবর
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার ৪৫ বছর পলাতক আসামি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর কোর্ট মার্শালের জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হামলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। মামলাসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন অন্যতম ছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, মেজর মোজাফফর হোসেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করে তার দিকে গুলি চালান। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি তৎকালীন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোন করে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর বিষয়টি জানান বলেও মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঞ্জুর নিহত হন। অন্যদিকে ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পলাতক অবস্থায় মেজর মোজাফফর দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতেন বলেও জানা গেছে।
অবশেষে ৪৫ বছর পর তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মামলায় নতুন অগ্রগতি এলো। এখন সেনাবাহিনীর বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ২য় তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন