এ সম্পর্কিত আরও খবর
‘আয়লান কুর্দি’ হয়ে কি প্রত্যাবর্তন করলেন জোহরান মামদানি?
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:১৩ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে ইতিহাস গড়ে জিতেছেন ডেমোক্র্যাট সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী জোহরান মামদানি। ডিজিটাল দুনিয়ার স্রোতে এ খবর এখন ‘অতীত’। কিন্তু নিউইয়র্কের বাসিন্দা না হলেও— মামদানির এই জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ। কারো বিজয়ে যে নিজের জয় অনুভব করা যায়- এমন মধুর অনুভূতির মতোই।
নিউইয়র্ক শহর প্রায় ১২১০ বর্গ কিলোমিটারের। কিন্তু ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে এ নির্বাচন ‘আশা অটুট’ রাখার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বের কাছে। এ নির্বাচন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্কের মেয়র বাছাই করেনি— দিয়েছে ‘কেড়ে নেওয়া’ মর্যাদা ফেরত পাওয়ার লড়াই।
অভিবাসী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহরের মেয়র
সিরিয়ার সেই ছোট্ট শিশু আয়লান কুর্দির কথা মনে আছে? গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়া থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছিলেন আবদুল্লাহ কুর্দি। উন্নত জীবনের আশায় সেখান থেকে গ্রিসে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় আবদুল্লাহর পরিবার। নৌকা ডুবে গেলে তার হাত ফসকে সাগরের ঢেউয়ে তলিয়ে যায় দুই ছেলে—তিন বছর বয়সি আয়লান আর পাঁচ বছর বয়সি গালিব। ভূমধ্যসাগর কেড়ে নেয় তাদের মা রেহানাকেও।
জোহরান মামদানি এমন এক সময়ে নিউইয়র্কের নিবার্চনে জয় পেলেন— যখন অভিবাসনপ্রত্যাসীদের ঘোর দুঃসময় চলছে। যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বিশ্বের কোটি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের শিকার। মানবপাচারে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার। ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হচ্ছে অজানা সহস্র মানব সন্তানের।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঠেকাতে গোটা ইউরোপে এখন উগ্র-দক্ষিণপন্থি পার্টিগুলোর উত্থান ঘটছে। বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক দলগুলো এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশ এ পরিস্থিতির মুখোমুখি।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্টের চিরচেনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে কুঠারাঘাত করেছেন। জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে আসীন হওয়ার পর থেকে সামরিক বিমানে অভিবাসীদের হাতকড়া পরিয়ে বিতাড়ন করেছেন, যে প্রক্রিয়া এখনো চলমান। ‘অভিবাসী সহনশীল’ যুক্তরাষ্ট্রের এমন রূপ আধুনিক ইতিহাসে অতিআশ্চর্য ঘটনা। ইউরোপের গণতন্ত্রের নেতারা ট্রাম্পের বৈষম্যমূলক নীতির কাছে মাথা নত করে চলেছেন।
তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে ছোট নিথর দেহ নিয়ে পড়ে থাকা সেই আয়লান কুর্দি— যেন প্রত্যাবর্তন করলেন ‘জোহরান মামদানি’ হয়ে। যখন অভিবাসী ঠেকাও স্লোগানে গোটা ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র দুলছে, তখন জোহরান মামদানির বিজয়ে নতুন মেরুকরণ তৈরি হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি পোস্ট ডক্টোরাল ফেলো আসিফ বিন আলীর কাছে মামদানির জয়, ‘অস্তিতের বার্তা তুলে ধরেছে’।
যুগান্তরকে তিনি বলেছেন, ‘একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবান। জোহরান মামদানির এই জয় জার্মানি, ইউরোপসহ পশ্চিমা বিশ্বের বাড় বাড়ন্ত উগ্র ডানপন্থিদের বিপক্ষে একটা বার্তা। এটি তোমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে আমাদেরও অস্তিত্ব আছে’।
তরুণ এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষকের মতে, এ নির্বাচনে চোখ রাখছিলেন নিউইয়র্কের বাইরের অন্য শহর ও রাজ্যের বাসিন্দারাও। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে ‘বাস্তবতার ফাঁরাক’ দেখেছেন তারা।
ফোর্বসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৬ জন ধনকুবের এবং ধনী পরিবার সম্মিলিতভাবে জোহরান মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনী প্রচারে ব্যয়ের জন্য বিপুল টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এই ধনকুবেররা ভেবেছিলেন— ‘অভিবাসী’ জোহরান নিউইয়র্কের ‘অস্তিত্বের হুমকি’।
এরপরও বিজয় থেকে দূরে রাখা যায়নি জোহরানকে। বিজয়ী বক্তৃতায় মার্কিন সোশ্যালিস্ট ইউজিন ভি. ডেবসের উক্তি টেনে মামদানি বলেছেন— ‘আমি মানবতার জন্য আরও ভালো দিনের সূচনা দেখতে পাচ্ছি’।
অভিবাসী শহর হিসেবে নিউইয়র্কের পরিচিতি তুলে ধরে মামদানি বলেছেন, ‘নিউইয়র্ক একটি অভিবাসী-নির্ভর শহর থাকবে, এটি অভিবাসীদের দ্বারা নির্মিত, চালিত এবং আজ থেকে এটি অভিবাসীদের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তাই শুনুন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প- আমাদের কারো কাছে পৌঁছাতে চাইলে আপনাকে সবার মধ্য দিয়ে যেতে হবে’।
প্রতিদ্বন্দ্বী কুমোর পক্ষে তহবিল সংগ্রহকারী ‘ফর আওয়ার সিটি’ নামে প্ল্যাটফর্মের একটি বিজ্ঞাপনে বিধ্বস্ত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে হাস্যোজ্জ্বল মামদানির ছবি ব্যবহার করেছিল। এ রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলোর ভাষা ছিল মূলত মামদানিকে বিতর্কিত করা। ট্রাম্প থেকে কুমো- উভয়ই জোহরান মামদানির নাম ‘সচেতনভাবে’ বিকৃত করেছেন।
আর জয়ের পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে জোহরান বলেছেন, ‘টার্ন দ্য ভলিউম আপ’। বার্তাটি এমন- আমরা গণতন্ত্রের কথা বলব, বৈচিত্র্যের কথা বলব। আপনি আরও আওয়াজ বাড়িয়ে শুনুন। আমাদের থামানো যাবে না।
দিল্লির গুরু গোবিন্দ সিংহ ইন্দ্রপ্রস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচিডি গবেষক ও ভারতের অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’–এর সাংবাদিক ঐন্দ্রিলা দাশগুপ্ত যুগান্তরকে বলেন, জোহরানের এ জয়, নত হওয়ার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার দৃঢ়তা।
যেমনটা তিনি বলেছেন, ‘জোহরান মামদানির জয় খুব স্পষ্ট করে বলে যে, গণতন্ত্রকে ভয় দেখিয়ে, দমিয়ে বা অভিবাসীবিরোধী ঘৃণা ছড়িয়ে নিস্তেজ করা যায় না। যখন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলো আতঙ্ককে অস্ত্র বানায়; হাতকড়া পরিয়ে মানুষকে তাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের অধিকার দমন, তখন মামদানির এ জয় পাল্টা বলে- ক্ষমতা এখনো সেই মানুষের, যারা চুপ করিয়ে দেওয়া মানে নত হওয়া মনে করে না’।
ঐন্দ্রিলা দাশগুপ্ত বলছিলেন, ‘এটা শুধু নির্বাচন জয় নয়, এটা গণতন্ত্রের স্মৃতিশক্তির ফিরে আসা। স্মরণ করিয়ে দেওয়া- প্রতিনিধিত্ব আসে রাস্তাঘাট থেকে, পাড়া-মহল্লা থেকে, সেসব মানুষের কণ্ঠ থেকে যাদের বলা হয়েছিল- ‘তোমরা গুরুত্বপূর্ণ নও;। এটাই সেই পুরোনো কিন্তু অমর নীতি- জনতার জন্য, জনতার দ্বারা, জনতার’।
তার ভাষায়, ‘মামদানি প্রমাণ করলেন- ভয় আর ঘৃণার রাজনীতি জোরে চিৎকার করতে পারে কিন্তু মানুষের ঐক্য তার চেয়েও জোরে কথা বলে’।
আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, ‘জবাব দিল’ নিউইয়র্কের ভোট
গাজা যুদ্ধে ইসরাইলি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন ট্রাম্পের ‘চক্ষুশূল’। দশকের পর দশক ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতি, ধর্ম, গোত্র, বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে আন্তজার্তিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক সেতু তৈরি করে এসেছে। আর সেখানে হাত দিয়েছেন ট্রাম্প। ‘প্রগতিশীল মতাদর্শ’ নির্মূল করতে, তহবিল ছাঁটাই করার মতো এমন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বজনীন মূল্যবোধের বিরুদ্ধে।
ফিলিস্তিনির পক্ষে প্রতিবাদে শামিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে পুলিশি নির্যাতন, গ্রেফতার, ভিসা বাতিলের মতো নজির দেখেছে। ট্রাম্পের এ সমস্ত পদক্ষেপ একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর স্বৈরাচারী আক্রমণ ছাড়া আর কিছু নয়।
এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে কিভাবে মোকাবিলা করা হবে— তা নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরের কোনো কার্যকর লড়াই এখনো চোখে পড়েনি। আর সেখানে ধ্রুবতারা হয়ে এলেন জোহরান মামদানি।
যেখানে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় মাহমুদ খলিলের মতো শিক্ষার্থীকে বিতাড়ন করা হচ্ছিল, আর সেই দেশের অভিজাত শহরের মেয়র নির্বাচনের আগে জোহরান মামদানি ঘোষণা দিলেন— তিনি নির্বাচিত হলে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার ‘নির্দেশ’ দেবেন।
‘সরাসরি গণহত্যা সম্প্রচার’ দেখেও এমন ঘোষণা ইউরোপের কোনো নেতার কাছ থেকে আসেনি। অন্যদিকে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার ঘোষণা দিয়েছেন ৩৪ বছরের ‘অখ্যাত’ এক তরুণ অভিবাসী। আর তিনিই এখন আমেরিকার বৃহত্তম শহরের মেয়র।
বিশ্বজুড়ে গবেষণা, জ্ঞাণ বিতরণ ও উৎপাদনে জড়িত এবং আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মামদানির জয়ে নিজেদের জয় খুঁজে পেয়েছেন। মামদানির জয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর শাসনব্যবস্থার হয়তো পরিবর্তন হবে না, তবে ১১ মাসের মাথায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধবাদী একজন প্রার্থী দেশটির বৃহত্তম শহরের মেয়র নির্বাচন হয়েছেন— এই বার্তা বলে দিচ্ছে ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভাবনায় বৃহৎ ফাঁরাক।
নিউইয়র্কের বাসিন্দা না হয়েও প্রচারে ছিলেন তারা
মেয়র নির্বাচনের দৌড়ে জোহরান মামদানির প্রচারণা মোটেও সহজ ছিল না। তাকে বলা হয়েছে ‘সন্ত্রাসবাদে সহানুভূতিশীল’ ও ‘হামাস সমর্থক’। কথার যুদ্ধে জড়িয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অতি ডানপন্থিদের কাছে ‘ট্রাম্পবাদ’ এখন বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার।
কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষ এ ট্রাম্পবাদকে উপেক্ষা করেছেন। ইনস্টাগ্রামে মামদানির ছবি ও ভিডিও পোস্ট, রিপোস্ট করেছেন এমন বহু মানুষ; যাদের কেউই নিউইয়র্কের ভোটার নন।
এসব মানুষ মামদানিকে ‘প্রগতির প্রতীক’ হিসেবেই বেছে নিয়েছেন। বর্বরতার বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াইয়ে মামদানিকে তারা নিজের সহযাত্রীই ভেবেছেন। না হলে ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে হাজার হাজার মানুষের এমন সমর্থন সাম্প্রতিক অতীতে আর কেউ পেয়েছে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে।
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওয়াশিংটনের বেশিরভাগ পদক্ষেপকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় আঘাত হিসেবে দেখে এসেছে গ্রগতিশীল সমাজ। যে যুক্তরাষ্ট্র বৈচিত্র্যের প্রতি প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে বিশ্বজুড়ে, দেশটির ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট এখন ইসরাইলকে এমন সব প্রাণঘাতী অস্ত্র দিচ্ছেন— যা তিনি নিজেও তিনি কখনো শোনেননি। আবার সেটা বললেন- বেশ দম্ভের সঙ্গেই।
বিশ্বের বিবেকবান মানুষের কাছে জোহরান মামদানি হয়ে উঠেছেন— তাদের জন্য লড়াইকারী হিসেবে। তাদের পক্ষে নিউইয়র্কে গিয়ে সংহতি জানানোর সুযোগ হয়তো ছিল না কিন্তু তারা সামাজিক মাধ্যমে বিরামহীন প্রচার চালিয়েছেন মামদানির পক্ষে।
জোহরান যখন তার ভোটের প্রচার শুরু করেছেন, তখন কেবল তার পক্ষে মাত্র ১ জয়ের শতাংশ ছিল। আর এমন সময় রিপাবলিকান এস্টাবলিশমেন্টের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হলেন। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব যেভাবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন, জোহরান ছিলেন তার চেয়ে বহুগুণ ব্যতিক্রম। এক ব্যার্নি স্যান্ডার্স ছাড়া অনেক ডেমোক্র্যাটই মামদানির রাজনৈতিক দর্শক বুঝে উঠতে পারেননি।
জোহরান ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষকে অনেকটাই এক ছাতার নিচে আনতে পেরেছিলেন, অন্যদিকে অ্যান্ড্রু কুমো বেছে নিয়েছিলেন বিদ্বেষ। নেট দুনিয়ার কল্যাণে মানুষ সহজেই অন্য মানুষের জীবনদর্শন ধরতে পারেন, আর সেখানে মানুষের মন জয় করেছেন জোহরান।
ট্রাম্পের আমেরিকা মহান করার যে রাজনৈতিক স্লোগান তা গৌরবের মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিপরীতে এ প্রজন্মের চিন্তা থেকে বহুদূরে অবস্থান করছেন অ্যান্ড্র কুমো। জোহরান মামদানি কেবল নিউইয়র্কের মেয়র নন, তিনি এ প্রজন্মের মেয়র, এ সময়ের মেয়র। সময় সব সময় প্রসঙ্গ নিয়ে চলে, জোহরান শুধু নিউইয়র্ককে নয়, তিনি সময়কে জয়ী করেছেন।
আসিফ বিন আলী বলেন, ‘নিউইয়র্কের বাইরেও জোহরান মামদানি প্রভাব তৈরি করতে পারার মূল কারণ, তিনি সবাইকে ধারণ করতে পেরেছেন। গণতন্ত্র, মানবাধিকার- এসব মূল্যবোধ সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। এটা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক মাধ্যমে মামদানির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরির পেছনে বড় বিষয় ছিল- তিনি সব অধিকারের পক্ষে কণ্ঠস্বর ছিলেন’।
‘একজন আধুনিক মুসলমানের কাছে তিনি যেমন গ্রহণযোগ্য, ঠিক তেমনি ইসলামি অনুশাসনে কঠোর ব্যক্তির কাছেও তিনিও পছন্দের। কারণ, তার কাছে মামদানির পরিচয় ‘‘মুসলিম’’ ছিল, যোগ করেন আসিফ।
আসিফের বিশ্লেষণ, ‘ঠিক একইভাবে, তিনি এলজিবিটিকিউ মানুষদের অধিকার নিয়েও সচেতন, গর্ভপাতের পক্ষেও রয়েছেন। আবার, শরণার্থী ও অভিবাসীদের পক্ষেও কথা বলেছেন। তিনি যে ইনক্লুসিভ রাজনীতি করেছেন, সেটিই তাকে বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে। এর মাধ্যমে, বিশ্বজুড়ে প্রগতিশীল গণতন্ত্রপন্থিদের সমর্থন তিনি আদায় করতে পেরেছিলেন’।
অন্যদিকে ঐন্দ্রিলা দাশগুপ্ত বলেন, ‘একইসঙ্গে পৃথিবী এখন এমন রাজনীতিবিদদের দেখে ক্লান্ত, যারা মানুষকে ভার মনে করে, বোঝা বলে। আর মামদানির মধ্যে মানুষ দেখছে সম্পূর্ণ বিপরীত কিছু। তিনি শোনেন, তিনি পাশে দাঁড়ান সেই সময়, যখন পাশে দাঁড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ; যখন তা জনপ্রিয় নয়। এ মানবিকতা রাজনীতির চেয়ে বড়। এটাই তাকে সীমান্তের বাইরে নিয়ে গেছে’।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানুষ তাকে দেখে একরকম আলোর রেখা হিসেবে, এমন এক নেতা যে ক্ষমতার আগে বিবেককে রাখে, নীতি আগে, সুবিধা পরে। যেমন রাজনীতিবিদ আমরা চাই, কল্পনা করি, আদর্শ মানি; মামদানি ঠিক সেই মানুষ’।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন