এ সম্পর্কিত আরও খবর
চারবার চেষ্টা করেও পাস নয়, এরপরই যৌন হয়রানির অভিযোগ
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
রাজশাহী প্রতিবেদক: বিউটিফিকেশন লেভেল–৩ কোর্সের পরীক্ষার দিন নাক ও কান ফুটানোর পরীক্ষা দেন সোনিয়া জামান। সেদিন পিয়ারসিং মেশিন নিয়ে চারবার চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। ফলে তিনি পরীক্ষায় ফেল করেন। তবে তার স্বামী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো হয়েছে। রাজশাহীর জীবনতরী সমাজকল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নগরের একটি রেস্তোরাঁয় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংস্থার পরিচালক মারুফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থার প্রশিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম। তারা দাবি করেন, সোনিয়া জামান ফেল করায় তার স্বামী আরিফুল ইসলাম সংস্থার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে উঠেপড়ে লেগেছেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। আরিফুল ইসলাম নগরের কোর্ট বাজার এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জীবনতরী সমাজকল্যাণ সংস্থা বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। গত বছরের মে মাসে বিউটিফিকেশন লেভেল–৩ কোর্সে ভর্তি হন সোনিয়া জামান। তিন দিনের প্রশিক্ষণ শেষে ১৭ মে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা গ্রহণ করেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অ্যাসেসর আঞ্জুমান আরা এবং শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজমেন্ট বিপ্লব কুমার বিশ্বাস। সেন্টার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মারুফ হোসেন।
মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরীক্ষার দিন সবার সামনে প্রশিক্ষণার্থীদের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা নেওয়া হয়। সে সময় সোনিয়া জামান পিয়ারসিং (নাক ও কান ফুটানো) করতে ব্যর্থ হন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি ফেল করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে সোনিয়া জামান তাকে অনুরোধ করেন পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য। তবে তিনি নিয়ম অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে আপিল করেননি। ফলে তার পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এরপর প্রায় সাত মাস কেটে যায়। হঠাৎ করে সোনিয়া জামান বিভিন্ন জায়গায় সংস্থার বিরুদ্ধে বদনাম ছড়াতে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে মারুফ একদিন তাকে ফোন করে বলেন, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে তিনি মানহানির মামলা করবেন। এরপর সেই রাতেই তার স্বামী আরিফুল ইসলাম ফোন করে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপরই বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া শুরু হয়।
গত বছরের ১৬ নভেম্বর আরিফুল ইসলাম রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রকাশ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে মারুফ হোসেন তার স্ত্রী সোনিয়া জামানকে কুপ্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ফেল করানো হয়। একই অভিযোগ সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছেও দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের তিনজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। সম্প্রতি দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে সংস্থার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
মারুফ হোসেন দাবি করেন, আরিফুল ইসলাম রাজশাহীতে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে তিনি নিজেকে সামাজিক সংগঠক পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এখন তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন মারুফ। এ চক্রে সীমা খাতুন নামের এক নারী জড়িত রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। মারুফের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তন করা হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সাবেক প্রশিক্ষক সোনিয়া মাহমুদা বন্নিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সোনিয়ার স্বামী আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়ান যে মারুফ হোসেন তাকে যৌন হয়রানি করেছেন এবং এ কারণে তিনি সংস্থায় চাকরি করতে পারেননি। এ ধরনের কথা লিখে আরিফুল তাকে মেসেঞ্জারেও বার্তা পাঠান। তবে এসব অভিযোগ সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে তিনি পারিবারিক কারণে চাকরি করতে পারেননি। সংস্থার পরিচালক তাকে যৌন হয়রানি করেননি।
সোনিয়া জামানের সঙ্গে ওই ব্যাচে মোট ১২ জন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে আখি খাতুন, সাবিনা ইয়াসমিন, তাপসী রাবেয়া, সুলতানা খাতুন, রোকেয়া খাতুনসহ আরও কয়েকজন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, পরীক্ষার দিন চারবার সুযোগ দেওয়ার পরও সোনিয়া জামান পিয়ারসিং করতে পারেননি। তাই তিনি ফেল করেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফেল করানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এসব বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমি এ ব্যাপারে কোর্টে মামলা করেছি। আমার কিছু বলার বা ডকুমেন্ট দেওয়ার থাকলে তা কোর্টেই উপস্থাপন করব।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন