এ সম্পর্কিত আরও খবর
মাত্র এক বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ হয়ে গেল পদ্মার গভীরে
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন কাজী সাম্য সাইফ ও জহুরা অন্তু দম্পতি। মাত্র এক বছরের দাম্পত্য জীবন শেষে তারা পদ্মার গভীরে চলে গেলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজবাড়ী শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, কাজী সাম্য সাইফ রাজবাড়ী শহরের মহিলা কলেজের পেছনের এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী জহুরা অন্তু রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের বিয়ে হয়েছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
ঈদের ছুটি কাটাতে তারা রাজবাড়ীতে নিজের বাড়িতে এসেছিলেন। বুধবার বিকেলে ঢাকায় ফেরার উদ্দেশ্যে রাজবাড়ী শহরের বাস মালিক সমিতি এলাকা থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি রাজবাড়ী ছাড়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পর দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
সাম্য ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। ছেলে ও পুত্রবধূকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা কাজী মুকুল। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাম্যদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় নবদম্পতির মরদেহ পাশাপাশি রাখা হয়েছে। ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী নারীর মরদেহের পাশে নারীরাই অবস্থান করছেন। সাম্যের মরদেহের পাশে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
একজন আত্মীয় বলেন, “আমার ভাই কত কথা বলত, এখন আর কথা বলে না।” পুরো বাড়ি শোকমগ্ন, চারপাশে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা।
সাম্যের চাচা কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, “আমার ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ছিল সাম্য। পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি বায়িং হাউসে চাকরি করত। তার স্ত্রী অন্তু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে ইন্টার্নি করছিল। এক বছর আগে বিয়ে হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে গত ফেব্রুয়ারি তার ঘরে তোলা হয়েছিল। এরপর তারা ঢাকার উত্তরায় থাকত। ঈদে বাড়িতে এসেছিল—কে জানত, এটাই তাদের শেষ যাওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ছেলে ও পুত্রবধূকে হারিয়ে আমার ভাই কাজী মুকুল এখন একা হয়ে গেছেন। সাম্য খুব ভালো ছেলে ছিল।”
একটি সুখী দাম্পত্য জীবন, অসংখ্য স্বপ্ন ও সম্ভাবনা সবকিছু মুহূর্তে থেমে গেল দৌলতদিয়ার সেই দুর্ঘটনায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসী এখনও কল্পনা করতে পারছেন না, সাম্য ও অন্তু আর কখনও ফিরবেন না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন