এ সম্পর্কিত আরও খবর
দুর্ঘটনায় পা হারানো ইসমাইল আজও জীবনযুদ্ধে অদম্য
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৯ এএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
এক পা হারিয়েও জীবনযুদ্ধ থেকে পিছু হটেননি ইসমাইল তালুকদার (২৬)। ক্রাচে ভর দিয়ে কষ্ট করে হাঁটেন, কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি নয়-নিজের সম্মান ধরে রাখতে বেছে নিয়েছেন ইজিবাইক চালানোর পেশা। তবুও প্রতিদিনের এই সংগ্রাম যেন আরও সহজ হতে পারত, যদি থাকত একটি কৃত্রিম পা। সেই আশাতেই এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের জালাল তালুকদারের ছেলে ইসমাইল। একসময় ট্রাক চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় সাত বছর আগে জীবনের মোড় ঘুরে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাক সরানোর সংকেত দিতে গিয়ে হঠাৎই ট্রাকের চাকা উঠে যায় তার ডান পায়ের ওপর। গুরুতর আহত অবস্থায় শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পা কেটে ফেলতে হয়।
চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তার পরিবার।
দুঃখ-দুর্দশার এখানেই শেষ নয়-তিন বছর আগে স্ত্রীও টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান। তবুও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি ইসমাইল। এক পা নিয়েই ভাড়ায় ইজিবাইক চালিয়ে কোনোমতে চালাচ্ছেন সংসার। কিন্তু প্রতিটি দিনই তার জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। একটি পা না থাকায় প্রতিনিয়ত শারীরিক কষ্ট আর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় তাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা সিফাত আকন বলেন, “ইসমাইলকে দেখলে সত্যিই খুব খারাপ লাগে। এক পায়ে ভর দিয়ে সে অটো চালিয়ে জীবন চালাচ্ছে, অথচ ভিক্ষা করছে না-এটা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা চাই, সমাজের বিত্তবান ও সরকার এগিয়ে এসে তাকে একটি কৃত্রিম পা উপহার দিক।”

আরেক বাসিন্দা তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, “ইসমাইলের জীবনটা খুব কষ্টের। পা হারানোর পর স্ত্রীও ছেড়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করতে হয়েছে। তারপরও সে হার মানেনি। আমরা দেখেছি সরকার অনেককেই কৃত্রিম পা দেয়-ইসমাইলও যেন সেই সহায়তা পায়।”
নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে ইসমাইল বলেন, “দুর্ঘটনার পর কলাপাড়া, পটুয়াখালী হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসা করিয়েছি। এতে আমি ঋণের বোঝায় ডুবে গেছি। এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই, কিন্তু কৃত্রিম পা কেনার সামর্থ্য নেই। যদি সরকার বা কোনো সহৃদয় ব্যক্তি আমাকে একটি কৃত্রিম পা দিতেন, তাহলে আমার জীবনটা অনেকটাই বদলে যেত।”
কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, ইসমাইল বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় রয়েছেন। তার কৃত্রিম পায়ের বিষয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এক পা হারিয়েও হার মানেননি ইসমাইল-তবুও তার চোখে একটাই স্বপ্ন, একটি কৃত্রিম পা। হয়তো একটু সহানুভূতি আর সাহায্যই বদলে দিতে পারে তার পুরো জীবন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন