এ সম্পর্কিত আরও খবর
অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বী লুনা লায়লা: ভার্মি কম্পোস্টে বদলে গেল জীবন
- বদরুদ্দোজা,পঞ্চগড়
- প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২০ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: অভাব-অনটনের সংসার থেকে উঠে এসে আজ স্বাবলম্বিতার দৃষ্টান্ত গড়েছেন পঞ্চগড়ের লুনা লায়লা। নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সঠিক প্রশিক্ষণ এবং পরিবারের সহযোগিতায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে তিনি এখন মাসে নিয়মিত আয় করছেন, বদলে গেছে তার পরিবারের জীবনযাত্রা।
পঞ্চগড় জেলা শহরের পুরাতন বণিক সমিতি সড়কের বাসিন্দা লুনা লায়লার সংসারে সদস্য পাঁচজন স্বামী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসার চালানোই ছিল কঠিন, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও থেমে থাকেননি তিনি। মনে ছিল একটাই লক্ষ্য সংসারের হাল ধরতে স্বামীর পাশে দাঁড়ানো।
ঘরের কাজ আর সন্তানদের দেখাশোনার ব্যস্ততার মাঝেও সুযোগ খুঁজছিলেন লুনা। এমন সময় এক পরিচিতজনের মাধ্যমে জানতে পারেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পের আওতায় নারী ও যুবকদের জন্য ১২ দিনের অন দ্য জব প্রশিক্ষণের কথা। এরপর স্বামী আবুল কালাম আজাদকে সঙ্গে নিয়ে যোগাযোগ করেন পঞ্চগড় কৃষি বিপণন কার্যালয়ে।
সেখানে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বাবার বাড়ির পতিত জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করবেন। তার আগ্রহ দেখে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মুআল্লেমা খানম তাকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রংপুরে এসএএফ ফাউন্ডেশনের অধীনে ১২ দিনের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নেন লুনা।

প্রশিক্ষণ শেষে ১২ হাজার টাকার ভাতা পান তিনি। সেই অর্থ এবং একটি এনজিও থেকে নেওয়া স্বল্প ঋণ দিয়ে বোদা উপজেলার মোন্নাপাড়া গ্রামে বাবার বাড়ির জমিতে মাত্র চারটি রিং দিয়ে শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। শুরুর দিকে মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার কেজি সার উৎপাদন করে সম্ভাবনার মুখ দেখেন তিনি। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে উৎপাদন। বর্তমানে সাতটি রিংয়ে উৎপাদন চালিয়ে মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করছেন লুনা লায়লা। এতে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, সন্তানদের পড়াশোনাও এখন অনেকটা নিশ্চিন্ত।
লুনা লায়লা বলেন, স্বামী এবং হাবিব অটো শো রুমের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমানের উৎসাহ, আর কৃষি বিপণন কর্মকর্তার সহযোগিতা না পেলে হয়তো এতদূর আসতে পারতাম না। এখন স্বপ্ন দেখছি আরও বড় পরিসরে কাজ করার।
তিনি জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করতে চান। পাশাপাশি এলাকার অন্য নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিরও ইচ্ছা রয়েছে তার।
কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মুআল্লেমা খানম বলেন, লুনা লায়লা আমাদের পার্টনার প্রকল্পের একজন উদ্যমী প্রশিক্ষণার্থী। তিনি খুব দ্রুত শেখার পাশাপাশি তা বাস্তবেও প্রয়োগ করেছেন। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন