এ সম্পর্কিত আরও খবর
প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসে পুলিশ সদস্য আটক
- নিউজ এক্সপ্রেস প্রতিবেদক
- প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে মালয়েশিয়া-প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন আতিকুর রহমান নামে এক পুলিশ সদস্য। তিনি জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছাড়ে ডোমার থানার পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ডোমার সদর ইউনিয়নের হুজুরপাড়া গ্রামে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন আতিকুর। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ হরিরামপুর এলাকার হোসেন আলীর ছেলে।
জানা গেছে, আতিকুর আগে ডোমার থানায় কর্মরত ছিলেন। সে সময় ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তার পরিচয় গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীর শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘ধর্ম বাবা-মা’ বলে সম্বোধন করতেন। সেই সূত্রে তিনি প্রায়ই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। নিজেদের পারিবারিক বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হতো।
প্রায় চার মাস আগে পারিবারিক সমস্যার বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিতে ওই নারী আতিকুরের সঙ্গে নীলফামারী কোর্টে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে তার শ্বশুরবাড়িতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ওই নারীর স্বজনরা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সমঝোতার মাধ্যমে তাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় আতিকুর সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে শ্বশুরবাড়িতে না পাঠিয়ে নিজের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরে আটকে রাখেন।
ওই নারী বলেন, “আমার শ্বশুরবাড়িতে আতিকুরের যাতায়াত ছিল। সেই সূত্রে আমাদের যোগাযোগ হয়। আমি আমার সাংসারিক বিভিন্ন সমস্যা তাকে জানাতাম। পরে আইনি পরামর্শ নিতে তার সঙ্গে কোর্টে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাদের সন্দেহ করে এবং আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করে। এসব কারণে আমি কয়েক মাস ধরে বাবার বাড়িতে আছি। আমার সংসার ভেঙে গেলে এর দায় আতিকুরকেই নিতে হবে।”
ওই নারীর শ্বশুর জানান, “আতিকুর আমাদের সঙ্গে ধর্মীয় সম্পর্ক গড়ে তুলে বাড়িতে যাতায়াত করত। চার মাস আগে কাউকে না জানিয়ে সে আমার ছেলের বউকে নিয়ে নীলফামারী যায়। বিষয়টি জানার পর থেকে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখি। এরপরও সে প্রায়ই বাড়িতে আসত।”
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বলেন, “পরিবারটির সঙ্গে ধর্ম বাবা-মায়ের সম্পর্ক থাকায় আমি খোঁজ নিতে যেতাম। মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয়। তাই আমি তার পরিবারকে বলেছিলাম, তাকে ওই বাড়িতে না পাঠিয়ে আমার সঙ্গে বিয়ে দিতে। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা আমাকে আটকে রাখে।”
ডোমার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আতিকুর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ওই নারীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে আটকে রেখে পরে মুচলেকা নিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আরআই) বদিউজ্জামান জানান, আতিকুর শুক্রবার রোল কলে অনুপস্থিত ছিলেন। শনিবার সকালে তিনি কাজে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন