এ সম্পর্কিত আরও খবর
সবুজ পৃথিবীর স্বপ্নে তরুণেরা
- মুন্তাসির মাহমুদ
- প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, বন উজাড় ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ের মতো নানা সংকটে যখন পৃথিবী ক্রমেই বিপন্ন হয়ে উঠছে, তখন পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু সরকার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নয়, একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা ও অংশগ্রহণও অপরিহার্য। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ সংকট, করণীয় এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিয়ে নিজেদের ভাবনা জানিয়েছেন তিন সামাজিক সংগঠক। তাঁদের চোখে উঠে এসেছে উদ্বেগ, দায়বদ্ধতা এবং একটি সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়। তাদের কথা লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন মুন্তাসির মাহমুদ।
একটি শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে শুধু সামাজিক নিরাপত্তা নয়, একটি বাসযোগ্য পরিবেশও প্রয়োজন। তাঁর কাছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং এটি এমন একটি আয়না, যেখানে আমরা দেখতে পাই আমাদের চারপাশের পৃথিবী কতটা বদলে গেছে। ছোটবেলায় বৃষ্টির পর রাস্তায় যে মাটির গন্ধ পেতাম, শহরে এখন আর তা পাওয়া যায় না। নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখলে বুক ভারী হয়ে যায়। অথচ এই ক্ষয় ঘটছে নীরবে, ধীরে ধীরে, আর আমরা অনেকটাই তা মেনে নিয়েছি। শিশুদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে শুধু সামাজিক নিরাপত্তা যথেষ্ট নয়। পানি, বায়ু ও মাটি দূষিত হলে সেই নিরাপত্তার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।
মোহাম্মদ রোকন
জেনারেল সেক্রেটারি কিডস সেফ
পরিবেশ রক্ষার কাজ শুরু হয় আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন থেকেই। প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার কমানো, বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলা কিংবা বাড়ির আঙিনায় একটি গাছ লাগানোর মতো ছোট ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। আমাদের প্রত্যেকেরই একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। শুধু নিজে সচেতন হলেই হবে না, পরিবার, বন্ধু ও আশপাশের মানুষদেরও পরিবেশ রক্ষায় উৎসাহিত করতে হবে। এটি কোনো বড় আন্দোলন নয় বরং প্রতিদিনের জীবনের একটি দায়িত্ব এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য। শুধু বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সচেতনতা দেখালে হবে না। পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত, আচরণ ও জীবনযাপনের অংশ হতে হবে। কারণ আজকের ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে পারে।
সাদিয়া আক্তার মাহি
সমাজকর্মী
পরিবেশ ধ্বংসের জন্য সবাই সমানভাবে দায়ী নয়। কেউ ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক লাভের জন্য পরিবেশের ক্ষতি করছে, আবার কেউ অজ্ঞতা বা সচেতনতার অভাবে অনিচ্ছাকৃতভাবে সেই ক্ষতির অংশ হয়ে পড়ছে। তাই এই দুই ধরনের সমস্যার সমাধানের পদ্ধতিও আলাদা হওয়া উচিত। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিবেশগত প্রভাবকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বর্জ্য, ধোঁয়া ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কোনো অজ্ঞতার ফল নয় বরং সচেতন অবহেলা। আর এর নেতিবাচক প্রভাব বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরিবেশবান্ধব ও সহজলভ্য বিকল্প পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প পণ্যের সহজলভ্যতা এবং ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ।
সৈয়দ মাহফুজুর রহমান সাফ
হিউম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন