এ সম্পর্কিত আরও খবর
স্পেনের বিশ্বজয়ে উল্লাসে ভাসল গাজা, ফিলিস্তিনজুড়ে বিজয় মিছিল
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি গ্রহণ করে স্প্যানিশ দল। তবে এই জয়ের সবচেয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায়।
স্পেনের বিশ্বজয়ের পর গাজাজুড়ে শুরু হয় স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপন। বিদ্যুৎ সংকট ও যুদ্ধের কারণে অনেকের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে খেলা দেখা সম্ভব না হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হয়। শত শত মানুষ ক্যাফে ও খোলা জায়গায় একত্র হয়ে ফাইনাল উপভোগ করেন। শেষ বাঁশি বাজতেই আনন্দে ফেটে পড়েন তারা।
স্পেনের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করেন ফিলিস্তিনি তরুণ-তরুণী ও শিশুরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘ যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে থাকা গাজার শিশুরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বিরল এই আনন্দের মুহূর্ত উদযাপন করছে।
ওমানের সমাজকর্মী শাবান আহমেদ আল-আজিলিসহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গাজা কখনো তার পাশে দাঁড়ানো বন্ধুদের ভুলে না। তাদের ভাষ্য, স্পেনের এই জয় শুধু ফুটবলের সাফল্য নয়, বরং যুদ্ধ ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের কৃতজ্ঞতার প্রতীক।
স্পেনের এই বিশ্বজয় ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ এবং প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজকে অভিনন্দন জানিয়ে এটিকে ‘মহৎ বৈশ্বিক ক্রীড়া অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হামাসের কর্মকর্তা বাসেম নাঈমও স্পেনের এই জয়কে স্বাগত জানিয়ে ফিলিস্তিন ও তাদের সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, হেব্রন ও নাবলুসসহ বিভিন্ন শহরে স্প্যানিশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে বিজয় মিছিল বের করেন শত শত মানুষ।
ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট আলা আল-লাকতা ও মোহাম্মদ সাবানেহ তাদের আঁকা কার্টুনে লামিন ইয়ামালসহ স্পেনের খেলোয়াড়দের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে দিয়ে দুই জনগণের সংহতির প্রতীক তুলে ধরেন। এর আগে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপনেও ইয়ামালকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা গিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের এই উচ্ছ্বাসের পেছনে রয়েছে স্পেনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থান। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। পরে ২০২৫ সালে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান এবং তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নেয় মাদ্রিদ।
সম্প্রতি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ক চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানান এবং ফিলিস্তিনের জন্য উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণাও দেন।
অন্যদিকে, ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়কেও অনেক ফিলিস্তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। কারণ দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইসরাইলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে আসছেন, যদিও আর্জেন্টিনার সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আলা রিমাউই দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে ইসরাইলের কিছু গণমাধ্যম ও কর্মকর্তা স্পেনের পরাজয় কামনা করেছিলেন। এমনকি এক ইসরাইলি রাব্বি স্পেনের হারের জন্য প্রার্থনাও করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয় ফিলিস্তিনিদের কাছে শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়, বরং তাদের প্রতি সমর্থন জানানো একটি দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জন্য বিরল এক আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ২য় তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন