এ সম্পর্কিত আরও খবর
ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিদের
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:২৫ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
ঈদ মানেই আনন্দ। সেই আনন্দের প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানীর দর্জিরা। সকাল থেকে গভীর রাত পার্যন্ত একটানা কাজ করছে দর্জিরা।
নতুন জামা বানাতে ক্রেতাদের ভিড়, অর্ডারের চাপ আর সময়মতো ডেলিভারির তাগিদে নিঃশ্বাস ফেলারও সুযোগ নেই তাদের। পুরান ঢাকা, গোপীবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মতিঝিল এলাকার অলিগলি ও বাজারের ছোট-বড় দর্জি দোকানগুলোতে বেড়েছে কাজের ধুম। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেই বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক ক্রেতা। কারণ ঈদ সামনে রেখে সেলাইয়ের মজুরি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, শবে বরাতের পর থেকেই রাজধানীর সব দর্জির দোকানে এখন কাপড় কাটাকুটি আর সেলাই মেশিনে নানা ডিজাইনের কাজ চলছে বেশ জোরেশোরেই। অনলাইন শপিং এবং রেডিমেড কাপড়ের কদর বেড়ে যাওয়ায় আগের সেই জৌলুস নেই টেইলার্সের দোকানে। তবে ঈদের আগের এ সময়টায় অর্ডার বাড়ছে বলে জানালেন দর্জিরা। কারিগররা জানান, এসময় একটু কাজের চাপ বেশি থাকে। শবে বরাতের আগে থেকেই অনেকে ঈদের কাজ বানিয়ে নিয়ে গেছে। ভালো ফিটিংস এবং পছন্দের পোশাক বানাতে কেউ কেউ ক্যাটালগ নিয়ে দ্বারস্থ হচ্ছেন দর্জির কাছে আবার কেউবা ফোনেই পছন্দের ডিজাইন আর মাপ বুঝিয়ে দিচ্ছেন কারিগরদের। এছাড়া কাপড়ে ভিন্নতা আনতে নানা ডিজাইনের লেইস কিনতেও দেখা যায় অনেককেই।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নারীদের সুতি থ্রি-পিস বানাতে যেখানে আগে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা নেওয়া হতো, সেখানে এখন চাওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা। জর্জেটের থ্রি-পিসে, যা আগে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় তৈরি হতো, এখন সেই মজুরি উঠেছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়।
পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার একটি দর্জি দোকানে দেখা যায়, একসঙ্গে কয়েকজন কর্মচারী মেশিনে কাজ করছেন, আর সামনে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা মাপ দিচ্ছেন। দোকান মালিক আবদুস সালাম বলেন, ঈদের আগে কাজের চাপ এমনিতেই থাকে। এবার বিদ্যুৎ বিল, সুতা আর কর্মচারীদের ওভারটাইমের খরচ বেড়েছে।
তাই মজুরি না বাড়িয়ে উপায় ছিল না।
গোপীবাগ এলাকার দর্জি রাশেদ মিয়া বলেন, আগে সুতির থ্রি-পিস ৪০০ টাকায় বানাতাম। এখন ৬০০ টাকার নিচে করলে খরচ ওঠে না। ঈদের পর আবার আগের দামে কাজ করব। খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় রাতেও খোলা রয়েছে একাধিক দর্জি দোকান। ভেতরে ঝুলছে ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকা পোশাক। দর্জি সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন রাত ১টা-২টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। এত অর্ডার যে নতুন কাজ নিতে ভয় লাগে। খরচ বেড়েছে বলেই মজুরি বাড়াতে হয়েছে। আরেক দর্জি আনোয়ার হোসেন জানান, জর্জেট কাপড় খুব পিচ্ছিল, কাজ বেশি লাগে। আগে ৬৫০ টাকায় বানাতাম, এখন ১ হাজার ৩০০ টাকা নিচ্ছি। না হলে লোকসান হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন