এ সম্পর্কিত আরও খবর
বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ
- সুমি লুসি কস্তা
- প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
এসো হে বৈশাখ, এসো এসো। বাঙ্গালির ঘরে ঘরে, সকল হৃদয়ের মাঝারে এসো। নতুন ধানের গন্ধে, সুভাষিত গ্রাম থেকে গ্রামাঞ্চল। প্রতিটি পথঘাট যেন বলে দেয় আজ পহেলা বৈশাখ। বাঙ্গালির একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। কোটি বাঙ্গালি যেন অবাক তাকিয়ে রয় এই উৎসবের দিকে। শহুরের জীবন বিরতীহীন তবুও এই উৎসবটিকে কেন্দ্র করে মানুষ ছুঁটে যায় শিঁকড়ে। যে শিঁকড়ে তাদের বেঁড়ে উঠা। অর্থাৎ পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয় পরিজন, সন্তান সন্তুতি, সমাজ, গ্রাম ও প্রকৃতি। এ যেন এক মিলন উৎসব। নবান্ন নব জীবনকে তাড়িত করে। বাঙ্গালির ঐতিহ্যকে ধারন করে। যখনই বাঙ্গালিদের নিয়ে ভাবি তখনই শ্রদ্ধাভরে বাংলা ভাষাকে ও বাংলাদেশকে স্মরণ করি। কেননা বাঙ্গালিদের জন্যে বাংলাদেশ আর তাদেরই জন্যে লাখো শহীদের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা। মোদের মায়ের ভাষা।
বৈশাখের আমেজ এক দিনের জন্যে নয়। এই দিনে বাঙ্গালি যুবতীরা হলুদ শাড়ি পরিধান করে এবং তাদের মাথায় দেখা যায় বিভিন্ন জাতের পুষ্পমাল্য। যুবকেরা পায়জামা-পানজাবিতে নিজেদের সাঁজিয়ে তোলেন। ঘরে ঘরে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি, বটগাছের তলায় বসে মেলা। জিলাপীওয়ালার তৈরি জিলাপী, নিমকি-ফুরলি, চড়ক গাছের দুল-দুলানি হৃদয় মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। এ যেন পরিপূর্ণ এক আনন্দের জলাধার। গ্রামের ওঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা ছুঁটে চলে মেলায়। মেলা দেখে ফেরার পথে বাঁশি বাজিয়ে জানান দেয় আজ পহেলা বৈশাখ।
১৪ই এপ্রিল যেন প্রতিটি বাঙ্গালির হৃদয়ে গেঁথে আছে। প্রতিটি সত্তা জানান দেয় এসো বাঙ্গালির ঐতিহ্যকে সম্মান করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আয়োজন করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রার যেখানে হাজারো বাঙ্গালি অংশ নেয় তাদের এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে। হাতে হাতে প্রদীপ, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, বাদ্যের তালে তালে, সুরেলা বাঁশির ধ্বনিতে হেঁটে চলে দুর্বার তারণ্যের দিকে। রাস্তার দুধারে হাজারো দর্শনার্থী আবেগে আপ্লুত হয়ে পরে। তারা সবাই একই পথের পথিক হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে সঙ্গিতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই গানের তালে তালে বাংলার প্রতিটি পথ-ঘাট ভরে উঠে। পহেলা বৈশাখ দিবসটি শুরু হয় সবারই চেনা একটি গানে- এসো হে বৈশাখ এসো এসো। গানটি বেঁজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সকল বাঙ্গালি একই তালে গেয়ে উঠে এসো হে বৈশাখ এসো এসো। এই গানে যেন কোন সাম্প্রদায়িকতা নেই, নেই কোন জাত, ধর্ম, বিবেধ। সবাই যেন এক আর সবার একটাই পরিচয়, আমরা বাঙ্গালি ও বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা, লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত ভাষা, কোন ক্রমেই এই ভাষার অবমর্যাদা আমরা করবো না, কোন কালেই নয়।
১৯৭১ সালে যেই ভাবে শত্রুমুক্ত করেছি আজ ২০২৬ সালে যদি দেখি শত্রুর ছুটাছুটি তবে প্রত্যেকজন বাঙ্গালি তাদের প্রতিহিত করতে প্রস্তুত। এই উৎসব আমাদের, আমাদের ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত। এই উৎসবকে হারিয়ে ফেলা মানে বাঙ্গালির ঐতিহ্যকে হারিয়ে ফেলা যা কোন ক্রমেই মেনে নেওয়া যায় না। বাঙালিদের বাঁচতে হলে অবশ্যই তাদের এই ঐতিহ্যকে লালন করতে হবে। বাঙ্গালি ঐতিহ্যের প্রতীক বিভিন্ন উৎসব পালন করেছেন। পহেলা বৈশাখ কারো একার উৎসব নহে। বরং এটি সকল বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব। এই উৎসব পালনে থাকবেনা কোন ভেদাভেদ। পহেলা বৈশাখ পালনে সবাই মোরা এক ও অভিন্ন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, বাঙ্গালি যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন থাকবে পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ তুমি অমর। অস্ত্র হাতে দস্যু আসলেও তুমি ভীতু নও কারণ তোমারই রক্ষাকবজ অগুণিত বাঙ্গালি। কেউ তোমাকে বাঙ্গালিদের কাছ থেকে ছিঁনিয়ে নিতে পারবে না কিংবা এই উৎসব পালনে বাধা দিতে পারবে না। বাঁধা এলেই বাঙ্গালি যুবারা জেগে উঠবে, তোমাকে রক্ষা করবেই করবে যেভাবে বাংলা ভাষা রক্ষায় রাস্তায় সংগ্রাম করেছিল ১৯৫২ সালে।
বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবলেই ভেসে আসে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির মানুষের গল্প। এখানে বাঙ্গালি ছাড়াও রয়েছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন। যদিও বা তারা আদিবাসী তবুও তারা পহেলা বৈশাখ উৎসবটি শ্রদ্ধাভরে পালন করে থাকে। তারা এই উৎসব পালনের মাধ্যমে জানান দেয় তারাও বাঙ্গালির ঐতিহ্যকে সম্মান করে ও ভালোবাসে। নিজস্ব সংস্কৃতিতে তারাও এই উৎসবটি পালন করে ও আনন্দ সহভাগিতা করে। এই থেকে বুঝা যায়, পহেলা বৈশাখ সবার জন্যে একটি অর্থপূর্ণ উৎসব। এই উৎসবটি উদযাপন করা মানেই হল বাঙ্গালির ঐতিহ্যকে জীবিত রাখা। বাঙ্গালি জাতি, বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ, বাঙ্গালির ঐতিহ্য বেঁচে থাকুক যুগ যুগ ধরে।
লেখক, সুমি লুসি কস্তা
গণমাধ্যম কর্মী
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন