এ সম্পর্কিত আরও খবর
আমাদের কোনো কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড: জামায়াতের আমির
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৫ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতের কাছে আলাদা কোনো কার্ড নেই, জনগণই তাদের শক্তি। তিনি বলেন, মানুষের সমর্থন, দোয়া ও ভালোবাসা নিয়েই তারা বেকারত্ব ও দায়মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে কেউ দয়ার পাত্র হয়ে থাকবে না।
শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুমার নামাজের আজানের পর শুরু হওয়া বক্তব্যে তিনি প্রায় ১২ মিনিট কথা বলেন। পরে পঞ্চগড় ১ আসনে জোটপ্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি এবং পঞ্চগড় ২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুট করে ভোগবিলাসের রাজনীতি তারা করবেন না। বরং যুবক ও যুবতীর হাত শক্তিশালী করে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসে দেশ গড়তে চান। তিনি বলেন, পরিবার যেমন নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে, তেমনি বাংলাদেশও সবার অংশগ্রহণেই এগিয়ে যাবে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ স্বভাবতই গরিব নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার মাধ্যমে গরিব করে রাখা হয়েছে। সৎমায়ের সন্তানের মতো আচরণের শিকার হয়েছে এ অঞ্চল। অথচ উত্তরবঙ্গই দেশের খাদ্য ও পুষ্টির বড় জোগানদাতা। এই বঞ্চনার সাক্ষী হতে তিনি পঞ্চগড়ে এসেছেন বলে জানান।
জামায়াতের আমির বলেন, ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গ থেকে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চান না। সবার হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চান তারা। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তরের কথা জানিয়ে তিনি বন্ধ চিনিকল চালু করা এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
উন্নয়নের বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতদিন ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’ উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার সুফল তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পৌঁছায়নি। এই ধারা পাল্টে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নদী পরিস্থিতি নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের নদীগুলো আজ কার্যত মৃত। শরীরের রক্তনালির সঙ্গে নদীর তুলনা করে তিনি বলেন, নদী বাঁচলে মানুষও বাঁচে। নদীগুলো ধ্বংস হওয়ার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নদীর প্রাণ ফেরানোর পাশাপাশি মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা হবে।
বর্তমান রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল পাঁচ বছরে একবার জনগণের কাছে আসে, বাকি সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। তৃণমূল ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জামায়াত এই ধরনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, চিকিৎসার জন্য মানুষকে ঢাকায় ছুটতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। দায়িত্ব পেলে দেশের ৬৪ জেলার কোথাও মেডিক্যাল কলেজ ছাড়া থাকবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন। পঞ্চগড়েও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে লুটপাট বন্ধ করা হবে।
সবশেষে জামায়াতের আমির বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা করে তারা বিশ্বাস করেন, পাঁচ বছরেই উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। এই অঞ্চলের মাটি উর্বর এবং মানুষ পরিশ্রমী, তাই পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন