এ সম্পর্কিত আরও খবর
‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার ময়দান
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব ‘উকুফে আরাফা’ পালনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৬ লাখের বেশি হাজি মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকেই আরাফাতের প্রান্তরে সমবেত হয়েছেন।
সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিলহজ মাসের ৯ তারিখ সূর্যোদয়ের পর থেকেই হাজিরা ধীরে ধীরে আরাফাতের ময়দানে পৌঁছাতে শুরু করেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় সময় কাটান। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক আবহ।
ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থানকে হজের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হজের গুরুত্ব তুলে ধরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফা।” ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই দিনটি রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়।
৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) বিদায় হজের সময় আরাফাতের জাবালে রহমতে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। সেই ভাষণে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানুষের জীবন-সম্পদের মর্যাদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে আসে।
মঙ্গলবার দুপুরে হাজিদের উদ্দেশে আরাফার খুতবা প্রদান করা হয়। খুতবায় দিনের গুরুত্ব, ফজিলত ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষাগুলো তুলে ধরা হয়। এরপর হাজিরা সুন্নাহ অনুসারে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আকারে আদায় করেন।
সারাদিন হাজিরা হাত তুলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত কামনা করেন। তালবিয়া, তাকবির ও দোয়ায় মুখর থাকে আরাফাতের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। বিনয়, আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য পরিবেশে তারা ইবাদতে মগ্ন থাকেন।
মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের ময়দানে রয়েছে জাবালে রহমত বা ‘রহমতের পাহাড়’। বহু হাজি সেখানে গিয়ে বিশেষ দোয়া ও নফল ইবাদতে অংশ নেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানেই হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলন হয়েছিল।
আরাফাতে যাওয়ার আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালন করেন। সেখানে অবস্থান করে তারা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেন।
চলতি বছর হাজিদের নিরাপত্তা ও সেবায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পবিত্র স্থানগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত চিকিৎসা দল, জরুরি সহায়তা ইউনিট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। পাশাপাশি পরিবহণ নেটওয়ার্কও জোরদার করা হয়েছে।
৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন এবং রাতযাপন করবেন। পরদিন শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতিও সেখানেই সম্পন্ন হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন