এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরানকে ৩৬ লক্ষ কোটি টাকা পুনর্গঠন তহবিল দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন তেহরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল দিচ্ছে - এমন দাবি নাকচ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো অর্থ দিচ্ছে না; বরং ইরান যদি চুক্তির শর্ত পূরণ করে, তবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
‘দ্য মেগিন কেলি শো’-তে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ইরান চুক্তির শর্ত মানলে তাদের ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ সহজ হবে, যা দেশটির অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো ইরানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারবে না। তাই কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা প্রয়োজন হতে পারে।
ভ্যান্স আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো অর্থ দিচ্ছে না। বরং শর্ত পূরণ হলে অন্য দেশ ও কোম্পানিগুলোকে ইরানের অর্থনীতি ও পুনর্গঠনে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কাঠামোগত চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলের রূপরেখা থাকতে পারে। সূত্রের বরাতে বলা হয়, এর একটি বড় অংশের জন্য ইতোমধ্যে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তহবিলের উদ্দেশ্য উভয় পক্ষকে চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে নেওয়া। তবে এটি কোনো সরকারি অনুদান বা ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নির্ভর একটি উদ্যোগ।
জ্বালানি, পরিবহন, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতকে এই বিনিয়োগের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারে।
তহবিলটির সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ আলোচনায় রয়েছে।
সূত্রের দাবি, যুদ্ধজনিত ক্ষতির জন্য ইরান শুরুতে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল, তবে ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
চার দশকের বেশি সময় ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বড় পরিসরে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারেনি। অথচ দেশটির রয়েছে বিপুল জ্বালানি সম্পদ, তরুণ জনশক্তি এবং শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল সম্ভাবনা।
সূত্র আরও জানায়, এই বিনিয়োগ কাঠামো নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ বা বিদেশে জব্দ সম্পদ মুক্ত করার আলাদা আলোচনার অংশ নয়। চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে এই তহবিল বাস্তবায়িত হবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন