এ সম্পর্কিত আরও খবর
একই সাথে আশরাফুল ও জরেজুলের সঙ্গে পরকীয়া করতেন শামীমা!
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২৮ এএম
-
ছবি: সংগৃহিত
পরকীয়ার জেরে রংপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল হককে (৪২) হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে ফেলে দেওয়া হয় রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু মো. জরেজুল ইসলাম ও শামীমা আক্তার নামে বিবাহিত এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে জরেজুলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অন্যদিকে র্যাব-৩ এর একটি দল লাকসাম থেকে হত্যায় জড়িত আশরাফুলের পরকীয়া প্রেমিকা শামীমাকেও গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে দুটি নীল রঙের ড্রাম থেকে ব্যবসায়ী আশরাফুলের মরদেহের ২৬টি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ডিবি সূত্র জানায়, কুমিল্লার বাসিন্দা শামীমা আক্তারের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শামীমার স্বামী সৌদি প্রবাসী। তিন বছর আগে ফেসবুকে সম্পর্ক হয় মালয়েশিয়া প্রবাসী জরেজুল ইসলামের সঙ্গে। পরে ছুটিতে দেশে আসলে শামীমার সঙ্গে জরেজুলের শারীরিক সম্পর্ক শুরু হয়।
অন্যদিকে একই এলাকায় থাকা জরেজুল ও আশরাফুলের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে জরেজুল সবসময় আশরাফুলের সঙ্গেই বেড়াতেন। জরেজুলের মাধ্যমেই আশরাফুলের সঙ্গে শামীমার পরিচয় হয়। এরপর আশরাফুলের সঙ্গেও শামীমার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুজনের সঙ্গেই শারীরিক সম্পর্ক চলতো শামীমার।
সম্প্রতি জরেজুল ঢাকায় এসে দক্ষিণ দনিয়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন। শামীমা তার ছেলে-মেয়েকে কুমিল্লায় রেখে সেখানে এসে ওঠেন। ঘটনার দিন আশরাফুল ও জরেজুল একসঙ্গেই ওই বাসায় যান। ওই সময় জরেজুলের সঙ্গে শামীমার শারীরিক সম্পর্ক হয়। এটি জেনে জরেজুলের অগোচরে আশরাফুলও শামীমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চান। তখন শামীমা আশরাফুলের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক করেন।
কিন্তু কোনো ভাবে বিষয়টি টের পেয়ে যান জরেজুল। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি। বের হওয়ার সময় ভুলে আশরাফুলের মোবাইলটি সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। পরে নিজের মোবাইলটি নিতে এসে শামীমা ও আশরাফুল একসঙ্গে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন জরেজুল। ওই সময় জরেজ বাসার ভেতরে লুকিয়ে রাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। রাতে শামীমা ও আশরাফুল আবারও শারীরিক সম্পর্ক করলে জরেজুল তা মেনে নিতে পারেনি। পরে আশরাফুলকে বালিশচাপা দিয়ে ধরেন জরেজুল। ওই সময় শামীমাও সেখানে ছিলেন।
এক পর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে আশরাফুল মারা যান। হত্যার পর মরদেহ দুই দিন বাসায় রেখে দুইজন ভাবতে থাকে কী করা যায়। পরে দুইজন মিলে আশরাফুলের দেহ ২৬ টুকরো করে দুটি ড্রামে ভরে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে রেখে কুমিল্লায় পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ত্রিভুজ পরকীয়া প্রেমের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আশরাফুল ও জরেজুল ইসলাম একে অপরের বন্ধু। শামীমা নামে কুমিল্লার এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তাদের দুজনেরই পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আশরাফুল তার বন্ধু জরেজুল ও প্রেমিকা শামীমার হাতে খুন হয়।
তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিবি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়াও চলমান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন