এ সম্পর্কিত আরও খবর
ঈদুল আজহার আগে গবাদি পশুতে ভাইরাস আতঙ্ক
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে খামারিদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ভাইরাসজনিত রোগ ‘ইফিমেরাল ফিভার’। হঠাৎ জ্বর, দুর্বলতা এবং দাঁড়িয়ে থাকতে না পারার মতো উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছে গরু-মহিষসহ বিভিন্ন গবাদি পশু। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে পশু পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ফলে ঈদের আগে লাভের আশায় পশু লালন-পালন করা খামারিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভীষণ উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা।
প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানায়, ইফিমেরাল ফিভার একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত পশুতে হঠাৎ জ্বর, খাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা এবং অনেক ক্ষেত্রে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। রোগটি সাধারণত মশা বা অন্যান্য বাহকের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই খামার এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, পরিচ্ছন্নতা ও কীটনাশক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। মোটকথা, দ্রুত চিকিৎসা দিলে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বৈশাখ মাসে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বৃষ্টির পর অনেক এলাকায় ইফিমেরাল ফিভার, লাম্পি স্কিন ডিজিজসহ নানা ধরণের ভাইরাসজনিত রোগ দেখা দিতে পারে। তাই খামারিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও বলেন, খামারের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত পশুর চিকিৎসায় হাতুড়ে চিকিৎসকদের এড়িয়ে চলা জরুরি। প্রাথমিক লক্ষণ দেখলেই দ্রুত সরকারি ভেটেরিনারি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে অধিকাংশ পশুই সুস্থ হয়ে ওঠে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
সাদুল্লাপুর ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্জন ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী জানান, আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ইফিমেরাল ফিভারের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। একটি খামারে একটি পশু আক্রান্ত হলে দ্রুত অন্য পশুতেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। ঈদের আগে এই রোগ ছড়িয়ে পড়লে খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই আক্রান্ত হলেই আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এবারের কোরবানির ঈদে সাদুল্লাপুরে পশুর চাহিদা ১৬ হাজার ৫৯টি হলেও প্রস্তুত রয়েছে ১৭ হাজার ৯৩৪টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ৭১০টি ষাঁড়, ৬৪৫টি বলদ, ২ হাজার ৭২৬টি গাভি, ৭ হাজার ৩৯২টি ছাগল এবং এক হাজার ৪৬১টি ভেড়া। চাহিদার তুলনায় এক হাজার ৮৭৫টি পশু বেশি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের আগ পর্যন্ত ৫-৬ সপ্তাহ পশুগুলো সুস্থ রাখতে পারলে তবেই লাভের মুখ দেখবেন খামারিরা।
খামারিরা বলছেন, এই মুহূর্তে ইফিমেরাল ফিভার একটি আতঙ্কের নাম। ভাইরাসজনিত এ রোগে পশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসায় বাড়তি খরচ পড়ে যায়। পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বেড়ে যাওয়ায় চাপে রয়েছেন তারা।
ভগবানপুর গ্রামের খামারি আব্দুল বারি সরকার বলেন, ‘একটি খামারে রোগ দেখা দিলে অল্প সময়েই সব পশু আক্রান্ত হতে পারে, এতে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।’ কাজীবাড়ী এলাকার খামারি সাজ্জাদুর রহমান শিফাত জানান, গো-খাদ্যের দাম কেজিতে ৮-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিল, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি। এরপর আবার পশু রোগে আক্রান্ত হলে কোরবানীতে বিক্রি করা মুশকিল হয়ে পড়বে।
গবাদি পশুর ইফিমেরাল ফিভার নিয়ে ক্ষুদ্র খামারিরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। আরাজী জামালপুর গ্রামের শাহিন মিয়া বলেন, ছোট পরিসরে খামার করে লাভ করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। রয়েছে ভারতীয় গরুর দাপট। নতুন করে যোগ হয়েছে ইফিমেরাল ফিভার আতঙ্ক। এ অবস্থায় সরকারি প্রণোদনা বা ভর্তুকি না পেলে অনেক খামারি আগামীতে এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান জানান, গত এক বছরে পশুর ওষুধের দাম ২০-২৫ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে দাম বেড়েছে গো-খাদ্যেরও। গো-খাদ্য বিক্রেতা লুৎফর রহমান বলেন, খাবারের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিক্রির সময় ন্যায্য দাম না পেলে খামারিদের লোকসান গুনতে হবে।
সূত্র: সমকাল
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন