এ সম্পর্কিত আরও খবর
সম্পর্ককে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে যা জানা দরকার
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
অনেকেরই ধারণা, সুন্দর চেহারা, বেশি আয় বা সামাজিক অবস্থান থাকলেই সহজে ভালোবাসা পাওয়া যায়। আধুনিক ডেটিং সংস্কৃতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধারণা আরও জোরালোভাবে দেখা যায়, যেখানে মানুষ নিজের আকর্ষণীয় চেহারা, সাফল্য বা জীবনযাপনকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করে। কিন্তু সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর ভালোবাসার ভিত্তি এসব বাহ্যিক বিষয় নয়।
বাহ্যিক বিষয় সবসময় সম্পর্ক গড়ে না
গবেষণায় দেখা যায়, চেহারা বা অর্থ প্রথমে আকর্ষণ তৈরি করতে পারে, কিন্তু এগুলো একা স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে যথেষ্ট নয়। বরং প্রকৃত সংযোগ তৈরি হয় তখন, যখন দুইজন মানুষ একে অপরকে আন্তরিকভাবে বুঝতে পারেন এবং নিজেদের আসল রূপে প্রকাশ করতে পারেন।
ভালোবাসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজন
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্পর্ক মানুষের মৌলিক চাহিদার অংশ। এটি শুধু আবেগের বিষয় নয়, বরং মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সঙ্গেও জড়িত। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভাব মানসিক চাপ, বিষণ্নতা এবং দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
একাকীত্বের প্রভাব
বর্তমান সময়ে মানুষ আগের চেয়ে বেশি সংযুক্ত থাকলেও প্রকৃত অর্থে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অনেকেই পরিচিত মানুষের ভিড়ে থাকলেও গভীর সম্পর্কের অভাবে একাকীত্ব অনুভব করেন। এই দীর্ঘমেয়াদি একাকীত্ব স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে মানসিক অবসাদ এবং বিভিন্ন শারীরিক ঝুঁকি।
ভালোবাসা পাওয়ার পথে কিছু ভুল ধারণা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো নিজেকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করলেই ভালোবাসা পাওয়া যাবে। বাস্তবে মানুষ বেশি আকৃষ্ট হয় আন্তরিকতা, সহমর্মিতা এবং সত্যিকারের যোগাযোগের প্রতি। সবসময় নিখুঁত দেখানোর চেষ্টা অনেক সময় সম্পর্ককে গভীর হওয়ার সুযোগ দেয় না।
গভীর সম্পর্ক গড়ার গুরুত্বপূর্ণ উপায়
মনোযোগ দিয়ে শোনা: কথোপকথনের সময় শুধু উত্তর দেওয়ার জন্য নয়, বরং অন্যের অনুভূতি বোঝার জন্য শোনা জরুরি। এতে সম্পর্কের মধ্যে আস্থা ও সম্মান তৈরি হয়।
অর্থপূর্ণ প্রশ্ন করা: সাধারণ প্রশ্নের বাইরে গিয়ে গভীর প্রশ্ন করা যেতে পারে, যেমন কোনো অভিজ্ঞতা, অনুভূতি বা চিন্তার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা। এতে মানুষ নিজের কথা খোলামেলা ভাবে প্রকাশ করতে উৎসাহিত হয়।
নিজের অনুভূতি ভাগ করা: নিজের ছোটখাটো অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা শেয়ার করা সম্পর্ককে আরও বাস্তব ও ঘনিষ্ঠ করে তোলে। এতে বিশ্বাস তৈরি হয় এবং দূরত্ব কমে আসে।
সহমর্মিতা দেখানো: অন্যের আচরণ বা কথাকে বিচার করার আগে তার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলে সম্পর্ক আরও মানবিক ও স্থিতিশীল হয়।
সম্পর্ক শুধু কথা বলা নয়, শোনা-ও গুরুত্বপূর্ণ: যদি একপক্ষই শুধু কথা বলে যায়, আর অন্যজন শোনার সুযোগ না পায়, তাহলে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়। সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
দীর্ঘ সম্পর্কেও কৌতূহল জরুরি: অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর সঙ্গীকে পুরোপুরি চেনা হয়ে গেছে। কিন্তু মানুষ সময়ের সঙ্গে বদলায়। তাই সম্পর্কেও নতুন করে জানার আগ্রহ রাখা জরুরি।
ভালোবাসা পাওয়ার জন্য নিখুঁত হওয়া জরুরি নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তরিক হওয়া, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সত্যিকারের সংযোগ তৈরি করা। কখনও কখনও সাধারণ কোনো প্রশ্ন বা জানতে চাওয়াই সম্পর্ককে আরও গভীর করে তুলতে পারে। আবার সামান্য উদাসীনতা আর অবহেলাই পারে সম্পর্ককে অনেকটা দূরে সরিয়ে দিতে।
সূত্র: সিএনএন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন