এ সম্পর্কিত আরও খবর
মানুষের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে বাড়িতে বিষধর সাপ পুষছেন আশরাফুল
- নিউজ এক্সপ্রেস প্রতিবেদক
- প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১১ এএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
আবু রায়হান, রাজশাহী প্রতিবেদক: পরিচিতজনদের বিপদে-আপদে সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু নিজের বিপদের সময় কাউকে পাশে পাননি। তাই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এ জন্য বিশ্বাস করে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সেখানেও প্রতারিত হন। এরপর থেকেই মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন আশরাফুল। তাঁর ভাষায়, মানুষকে বিশ্বাস করার চেয়ে অবলা প্রাণীকে বিশ্বাস করা ভালো। তাই বাড়িতে এনে পুষছেন একটি বিষধর গোখরা সাপ।
আশরাফুল ইসলামের (৪৫) বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের উজালপুর গ্রামে। প্রায় দুই মাস ধরে বাড়িতে একটি বিষধর গোখরা সাপ পুষছেন তিনি। সাপটির বিষদাঁত ভাঙেননি। বরং করাতের আঘাতে আহত সাপটিকে উদ্ধার করে এনে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তুলেছেন। দুধ ও ডিম খাইয়ে সাপটিকে লালনপালন করছেন তিনি। আশপাশের লোকজন বিষয়টি নিয়ে নানা কথা বললেও তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না বলে জানান আশরাফুল।
আশরাফুল ইসলাম পেশায় একজন অটোমেকানিক। তাঁর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী পারভিন বেগম (৩৮), ছেলে শাওন ইসলাম (১৮) ও মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (৯)। পরিবারের সদস্যরা তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হলেও আশরাফুল বাড়িতে গোখরা সাপটি পুষে রেখেছেন। সাপটি প্রায় দুই ফুট লম্বা এবং বয়স আনুমানিক এক বছর। হাঁড়ি থেকে বের করলে সাপটি ফণা তুলে বসে থাকে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে উজালপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খাসজমিতে আশরাফুলের দুটি ভাঙাচোরা টিনের ঘর। এক পাশে কবুতর ও হাঁস-মুরগি রাখার ঘর রয়েছে। তার পাশেই টিনের চালার সঙ্গে ঝোলানো একটি মাটির হাঁড়িতে সাপটিকে রাখেন তিনি। দু-এক দিন পরপর সাপটিকে বের করে ডিম ও গরম দুধ খাওয়ান। এভাবেই দুই মাস ধরে সাপটি তাঁর বাড়িতে রয়েছে।
আশরাফুল জানান, প্রায় দুই মাস আগে গ্রামের মোড়ে একটি পুরোনো বটগাছ কাটা হচ্ছিল। করাতের আঘাতে একটি সাপ গাছের গুঁড়ির ভেতরে আটকে পড়ে। স্থানীয় লোকজন সাপটিকে মেরে ফেলতে চাইলে তিনি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর থেকেই সাপটি তাঁর কাছেই রয়েছে।
বৃহস্পতিবার আশরাফুলের বাড়িতে সাপটি দেখতে যান প্রতিবেশী সুলতান আলী ও মহিনুল ইসলাম। সুলতান আলী বলেন, ‘এটা খুবই ভয়ের বিষয়। সাপ তো আপন-পর চেনে না।’ মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে সাপ রাখার কারণে অনেকেই তাঁকে পাগল বলে।’
আশরাফুল জানান, বিষধর সাপ পোষার কারণে কেউ কেউ তাঁর বাড়িঘর উচ্ছেদ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। তবু তিনি সাপটি রাখতে চান। আশরাফুল বলেন, ‘আমি বহু মানুষকে সহযোগিতা করেছি, কিন্তু সব সময় ঠকেছি। কিছুদিন আগে বিদেশ যাওয়ার জন্য দেওয়া ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মেরে দিয়েছে। আমি মানুষের পাশে থাকলেও কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। তাহলে মানুষকে বিশ্বাস করব কীভাবে? মানুষ ভালো পরামর্শও দেয় না। মানুষের চেয়ে অবলা প্রাণীকে ভালোবাসা অনেক ভালো।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাকে ভালোবাসা যায়, সে-ই আঘাত করে। আমি আঘাতের মধ্যেই আছি।’ কতবার আঘাত পেয়েছেন জানতে চাইলে আশরাফুল বলেন, ‘আমার জীবনে বহুবার। অনেক বন্ধুবান্ধব ছিল। অনেককে টাকা ধার দিয়েছি, তারা টাকা ফেরত দেয়নি। নিজে না খেয়ে অন্যকে খাওয়ানো লোক আমি। কিন্তু যতক্ষণ পকেটে টাকা থাকে, ততক্ষণই মানুষের মূল্য থাকে।’
আশরাফুলের ভাষ্য, ‘টাকা না থাকলে অনেকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। দেখলেও না দেখার ভান করে। এখন সাপটাকেই বাড়িতে রেখেছি। অনেকে বলে, সাপের হাতেই আমার মৃত্যু হবে। এগুলো মানুষের কথা। আমি এসব কিছু মনে করি না।’
এ বিষয়ে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহীর পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘সাপ কখনো পোষ মানে না। তা হলে সাপুড়েদের সাপের কামড়ে মৃত্যু হতো না। আশরাফুল হয়তো সাপ ধরার কৌশল রপ্ত করেছেন। তবু বিষধর সাপ বাড়িতে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া বন্য প্রাণী এভাবে বাড়িতে রাখা আইনবিরুদ্ধ।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন