এ সম্পর্কিত আরও খবর
ঘামে উৎপন্ন করা পাকা ধান চোখের সামনে তলিয়ে গেল
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
নিজের শ্রম ও ঘামে উৎপাদিত পাকা ধান চোখের সামনে পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নবীগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের কৃষক হরলাল বৈষ্ণব। টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে আসা পানিতে তার স্বপ্ন ভেসে গেছে। একই পরিস্থিতি এখন পুরো হাওর অঞ্চলের কৃষকদের।
কৃষক জামাল মিয়া জানান, অধিকাংশ জমির পাকা ধান ইতোমধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক ও নৌকার সংকটের কারণে ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে রৌদ্রের অভাবে প্রায় ১৫ শতাংশ ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বড় ভাকৈর (পশ্চিম ও পূর্ব), দীঘলবাক, করগাঁও, বাউসা, পানিউমদা ইউনিয়নসহ উপজেলার সব হাওরেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
নবীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ৪০০ হেক্টর পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। মোট ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। বাকি অংশ মূলত হাওরের বাইরে চাষকৃত জমি।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত ৪-৫ দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গুঙ্গিয়াজুড়ি, মকার হাওরসহ প্রায় সব হাওরেই অন্তত দেড় হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে ডুবে গেছে।
কৃষক আব্দুল কাহার চৌধুরী বলেন, “ধান কাটার ঠিক সময়েই সব তলিয়ে গেছে। অনেকেই ঋণ করে চাষ করেছিলেন, এখন সেই ঋণ কীভাবে শোধ করবেন বুঝতে পারছেন না।”
মকার হাওরের কৃষক জুনেদ মিয়া বলেন, “আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ করে চাষ করেছিলাম, এখন পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত।”
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক মনি জানান, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার হাওর এলাকায় প্রায় ৪০০ হেক্টর বোরো ধানের পাকা ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন