এ সম্পর্কিত আরও খবর
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় আগ্রহী তুরস্ক
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
হাকান ফিদান বলেন, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো কার্যকর ও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এই পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ সহযোগিতার নতুন সুযোগ নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের অবস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে সমন্বয় ও সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এক দশকের কাছাকাছি সময় ধরে ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে। এই সংকটের টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করতে তুরস্ক সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষেও তুরস্ক সমর্থন দিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা নিয়ে হাকান ফিদান বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত এখন বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা শুধু অঞ্চল নয়, বৈশ্বিক পরিসরেও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তুরস্ক।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব আলোচনা বাস্তব ফলাফলে পৌঁছাবে এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নির্বিঘ্ন নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং সংঘাত-পূর্ব পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। যেকোনো বিরোধের সমাধানে সংলাপকেই সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
হাকান ফিদান বলেন, এ বিষয়ে তুরস্ক আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকেও তারা ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং এ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে।
তবে আলোচনার অগ্রগতির মধ্যেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে হাকান ফিদান বলেন, চলমান সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিতে পারে এমন যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করাও জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলের বর্তমান সরকার দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং গাজায় চলমান সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক বিবেককে নাড়া দিয়েছে।
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে সহযোগিতার ক্ষেত্র ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। নতুন নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক কাজ করে যাবে।
সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সম্পদ সংরক্ষণে সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে বলেও জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন