এ সম্পর্কিত আরও খবর
সান মারিনোর বিপক্ষে ঐতিহাসিক ম্যাচটি জয়ে রাঙালো বাংলাদেশ
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের মাটিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই স্মরণীয় জয় পেল বাংলাদেশ। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের জয়ের নায়ক অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন। তাঁর জোড়া গোলেই সেরাভালের সান মারিনো স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।
ফিফা র্যাংকিংয়ের সবচেয়ে নিচের দল সান মারিনো। কিন্তু ইউরোপের দেশ হওয়ায় নিয়মিতই তাদের খেলতে হয় জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড, ইতালির মতো বিশ্ব ফুটবলের বড় শক্তিগুলোর বিপক্ষে। তাই র্যাংকিংয়ের হিসাবের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য সান মারিনোর বিপক্ষে এই জয় বিশেষ কিছু। কারণ ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ, আর সেই ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লাল-সবুজরা।
সান মারিনো স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। জয়ের নায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দুই অর্ধে একটি করে গোল করেছেন তিনি, দুটি গোলই হেডে। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঁইয়া মাঠ ছাড়ার পর অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও ওঠে তপুর হাতে। শেষ পর্যন্ত তাঁর গোলেই ইউরোপের দলের বিপক্ষে প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ এর আগে ইউরোপের মাটিতে খেলেছে, তবে ইউরোপের দলের বিপক্ষে নয়। ২০০০ সালে ইংল্যান্ডে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ, সেই ম্যাচ জেতা হয়নি। ২০০১ সালে ভারতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলেছিল লাল-সবুজরা, সেই ম্যাচে ২-০ গোলে হারতে হয়েছিল। সে হিসেবে সান মারিনোর বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য আলাদা এক মাইলফলক।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য খুব স্বস্তির ছিল না। বল দখল ও আক্রমণে শুরুতে এগিয়ে ছিল সান মারিনো। নিজেদের মাঠে তারা দ্রুত ছন্দ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাংলাদেশের রক্ষণও প্রথম কয়েক মিনিটে কিছুটা চাপে পড়ে। তবে দশ মিনিটের পর ধীরে ধীরে খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ বাড়ে, আক্রমণেও দেখা যায় গতি।
১৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে আক্রমণের সূত্রপাত। এরপর শেখ মোরসালিন ডান প্রান্ত থেকে দারুণ ক্রস বাড়ান। বক্সের ভেতর অবস্থান নেওয়া তপু বর্মণ নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান। সান মারিনোর জাল কাঁপতেই গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন বাংলাদেশের সমর্থকরা।
তবে বাংলাদেশের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৩ মিনিটে সমতায় ফেরে সান মারিনো। ফিলিপ্পো বেরার্দিকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন তপু, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে থামাতে পারেননি। বেরার্দির কাটব্যাক থেকে বক্সের ভেতর ফাঁকা জায়গায় বল পান নিকোলাস। তাঁর শটে ডান দিকে ঝাঁপিয়েও পুরোপুরি বল ঠেকাতে পারেননি গোলরক্ষক মিতুল মারমা। হাতে লেগে বল জালে জড়ায়। স্কোরলাইন হয় ১-১।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও আক্রমণের উৎস ছিলেন শেখ মোরসালিন। তাঁর বাড়ানো বল পেয়ে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষককে প্রায় একা পেয়েছিলেন। কিন্তু ভালো সুযোগ পেয়েও পোস্টের ওপর দিয়ে শট নেন তিনি। ফলে বিরতিতে দুই দল যায় ১-১ সমতা নিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি। মাঠে নামান সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে। সামিত ও জায়ান নামার পর বাংলাদেশের খেলায় গতি বাড়ে। মাঝমাঠে বল চলাচল দ্রুত হয়, আক্রমণেও তৈরি হয় নতুন ধার। এই সময়ে বাংলাদেশ আরও একটি গোল পেতে পারত। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের শেষ পনেরো মিনিটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন ডুলি। বিশ্বনাথ ঘোষকে মাঠে নামানো হয়। সাধারণত ফুলব্যাক হিসেবে খেললেও এই ম্যাচে তাকে রাইট উইংয়ে ব্যবহার করা হয়। পরে বাংলাদেশের জয়সূচক গোলের আক্রমণেও বড় ভূমিকা রাখেন বিশ্বনাথ।
৮৬ মিনিটে ডান দিক থেকে হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক আসে বিপজ্জনক জায়গায়। বিশ্বনাথ ঘোষ ভলি নেন। বক্সের ভেতর তখন মাটিতে পড়ে ছিলেন তপু বর্মণ। উঠে দাঁড়ানোর মুহূর্তে বল তাঁর মাথায় লেগে জালে জড়ায়। কিছুটা অপ্রত্যাশিত হলেও সেটিই হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। নিজের দ্বিতীয় গোলের সঙ্গে তপু লিখে ফেলেন বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন ইতিহাস।
শেষ দিকে চার মিনিট যোগ করা সময় দেয় চতুর্থ রেফারি। সেই সময়টুকুতে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে সান মারিনো। এক পর্যায়ে মিতুল মারমার হাত ফস্কে বল গোললাইনের দিকে গড়ায়। তবে বল পুরোপুরি লাইন অতিক্রম না করায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। শেষ দুই মিনিট সতর্ক থেকে কাটিয়ে দেয় ডুলির দল। শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন