এ সম্পর্কিত আরও খবর
৬ মাসে দেশে নারী ব্যাংকার কমেছে ৭৭০ জন
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১০:২৩ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা আরও কমে গেছে। ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকে নারী কর্মী কমেছে ৭২১ জন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কমেছে ৪৯ জন। সেই হিসাবে ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে ৭৭০ জন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নারী-পুরুষের সমতাবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৬১। গত জুন শেষে ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ৭৮২। সেই হিসাবে ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকে নারী কর্মী কমেছে ৭২১ জন। একইভাবে ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৯। গত বছরের জুন শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৮। সেই হিসাবে ছয় মাসের ব্যবধানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে ৪৯ জন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়েছে ২৯ হাজার। পাঁচ বছরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে কর্মী যতটা বেড়েছে, তার মধ্যে পুরুষ কর্মী বেড়েছে ২২ হাজার ৩১৬ জন। আর নারী কর্মী বেড়েছে ৬ হাজার ৬৮৭ জন। ২০২০ সাল শেষে ব্যাংক খাতে মোট কর্মীর মধ্যে সাড়ে ১৫ শতাংশ ছিল নারী। পাঁচ বছরের ব্যবধানে শতাংশের হিসাবে নারী কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে গত বছর শেষে সাড়ে ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় শেষ ছয় মাসে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে।
জানতে চাইলে ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অনিতা গাজী রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু ব্যাংক নয়, সব ধরনের কর্মক্ষেত্রেই নারীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। অথচ শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা দেখি, মেধায় পুরুষের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে থাকেন। কিন্তু সেই চিত্র বদলে যায় কর্মক্ষেত্রে এসে। কারণ, আমাদের পরিবার, সমাজব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো পুরোপুরি নারীর কর্মবান্ধব উপযোগী হয়ে ওঠেনি। এ কারণে দেখা যায়, নারীরা একটি পর্যায়ে এসে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। কারণ, তাঁদের পরিবার ও সন্তান দেখভালের দায়িত্ব নিতে হয়। এই পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে সমাজ, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি নারীবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো খুবই জরুরি।’
ব্যাংক ও আর্থিক খাতে যত নারী কর্মী রয়েছেন, তার সিংহভাগই বেসরকারি ব্যাংকে। গত বছর শেষে নারী কর্মীদের মধ্যে ২২ হাজার ৯৮৩ জন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ হাজার ১৪৭ নারী কর্মী কর্মরত রয়েছেন রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকে। এ ছাড়া গত বছর শেষে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ব্যাংকে ১ হাজার ৯৪৭ জন এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৯৮৪ নারী কর্মী কর্মরত ছিলেন। শতাংশের বিবেচনায় গত বছর শেষে সবচেয়ে বেশি নারী কর্মী কর্মরত ছিলেন বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকে। এ খাতে ব্যাংকের মোট ৩ হাজার ৯৩১ কর্মীর মধ্যে ৯৮৪ জনই ছিলেন নারী, শতাংশের হিসাবে যা ২৫ শতাংশের বেশি। সংখ্যার হিসাবে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও শতাংশের হিসাবে এ খাতের ব্যাংকে নারীর অংশগ্রহণ কম। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট কর্মীর মধ্যে ১৬ শতাংশ নারী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকে নারী কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী ব্যাংকের প্রারম্ভিক পর্যায়ে কর্মরত-এই হার ১৭ শতাংশের বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ১৯ শতাংশ নারী কর্মী কর্মরত মধ্যবর্তী পর্যায়ে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে কর্মরত নারীদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী কর্মীর হার সবচেয়ে কম-১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন