এ সম্পর্কিত আরও খবর
নির্বাচনের সময় সবাই বলেন ব্রিজ হবে
নৌকা আর বাঁশের সাঁকোর ভরসায় ২০ গ্রামের মানুষ
- সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
- প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৭ এএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
নির্বাচনের পর সেই ব্রিজ আর কারও খোঁজে থাকে না। কথাগুলো বলতে বলতে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন ৬০ বছর বয়সী আব্দুস সামাদ। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার আগুরিয়া গ্রামের এই বৃদ্ধের চোখে-মুখে জমে থাকা ক্লান্তি যেন ১৭ বছরের অপেক্ষার সাক্ষ্য।
বেলকুচির আগুরিয়া এলাকায় একটি ৩৫০ থেকে ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু আজও সেখানে নেই কোনো স্থায়ী ব্রিজ। ফলে বন্যায় নৌকা আর শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো এই দুই ভরসাতেই চলছে অন্তত ২০ গ্রামের ২২ থেকে ২৩ হাজার মানুষের জীবন।
সম্প্রতি বেলকুচি উপজেলার আগুরিয়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে ‘আগুরিয়া নদী’ নামে পরিচিত যমুনা-সংযুক্ত নদীটির পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। নদী পারাপারে ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে প্রতিদিন নারী–পুরুষ ও শিশুরা যাতায়াত করছেন।
স্থানীয়রা জানান, বেলকুচির হরিনাথপুর চর, বড়ইতলা, বেড়া খাওরুয়া, দসখাদা, মুলকান্দি,বাগভাংরা,নানাপুর চরবড়ধুল এই সব গ্রামের মানুষদের প্রতিদিনের যাতায়াত নির্ভর করছে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর।
স্কুলে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের, হাটে যেতে হয় কৃষকদের, চিকিৎসার প্রয়োজনে যেতে হয় বৃদ্ধদের কিন্তু প্রতিটি পথেই সামনে পড়ে সেই কাঁপতে থাকা সাঁকো।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া যায় না। ফলে ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে শিক্ষার্থী ও বয়স্করা।
এই বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেন হযরত আলী নামের এক মাঝি। প্রতি বছর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি এটি নতুন করে বানান। গ্রামবাসীরা পারাপারের বিনিময়ে বছরে এক মণ ধান দেন। আর অপরিচিত কেউ পার হলে নেওয়া হয় জনপ্রতি ৫ টাকা।
হযরত আলী বলেন, নদীর ওপর ব্রিজ না থাকলে তো মানুষ চলবে কীভাবে? নিজের টাকায় না বানালে এ গ্রামগুলা একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
কথা হয় আগুরিয়ার সোনাউল্লাহ নামের এক কৃষকের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের ফসল আছে, কিন্তু বাজারে নিতে পারি না। বাঁশের সাঁকো দিয়ে বড় গাড়ি যায় না। বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় আড়তে বিক্রি করতে হয়।
আব্দুস সামাদ বলেন, আমি বুড়ো মানুষ। বাঁশের সাঁকো পার হতে গেলেই বুক কাঁপে। ভোটের সময় সবাই আসে,পরে কেউ আর খবর নেয় না।
ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমরা এবার ভোট কেন্দ্রেই যাওয়ার ইচ্ছে নেই। সবার ভোটের আগে কথা দেয় পরে আর খোঁজ নেয় না।
এ বিষয়ে জানতে ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিব খাঁনকে মুঠোফোনে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।
রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু বক্কর সিদ্দিক রেজাকে একাধিকবার কল দিলে তিনিও রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে কথা হয় সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আলী আলমের সাথে। তিনি বলেন,পুর্বের যারা ক্ষমতায় ছিলেন। তারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনীতি করেছে। সেই রাজনীতি আমরা বিশ্বাস করি না। আমাদের রাজনীতি অবকাঠামো উন্নয়ন মানবিক,কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচিত হলে মানুষের যাতে ভোগান্তি না হয় সে বিষয়েগুলো নিয়ে আমরা কাজ করবো।
সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম ব্যস্ত থাকার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা দলীয়ভাবেই ক্ষমতার বাইরে ছিলাম। ঠিক মতো আমরাও কথা বলতে পারিনি। তবে আমাদের নেতা আলীম ভাই ক্ষমতার বাইরে থেকেও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছে। তিনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে চারটা প্রকল্পের রাধুনিবাড়ি, শাহপুর, লক্ষ্মীপুর ও আজুগড়ায় কাজ করার জন্য কার্যক্রম ভূমিকা রেখেছেন। আসলে আমরা কাজে বিশ্বাসী; আল্লাহ যদি বিএনপি ও আলীম ভাইকে ক্ষমতায় নেয়। তখন আমরা কাজ করেই প্রমাণ করে দিবো। বিএনপির মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, এটা উপজেলা প্রকৌশলী ভালো বলতে পারবে। তবে সেও তো বদলী হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি খোঁজ খবর নিবো। ইতোমধ্যে অবশ্য কয়েকটা ব্রিজের তালিকা জেলা প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) রেজাউর রহমান বলেন, ৭৫ টা ব্রিজ নির্মানের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এরমধ্যে যদি সেটা থাকে তাহলে কাজ হবে। আর যদি তালিকায় না থাকে তাহলে পরবর্তীতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন