এ সম্পর্কিত আরও খবর
খালেদা জিয়াসহ বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
স্পিকার নির্বাচনের পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ–এর সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই শোকপ্রস্তাব উপস্থাপনের মাধ্যমে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রথম দিনের অধিবেশনে আগে থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ–এ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং দেশি–বিদেশি বিভিন্ন বিশিষ্টজনের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনার কথা কার্যসূচিতে ছিল। পরে চিফ হুইপ মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদী–এর নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন, যা স্পিকার গ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন এবং শোকপ্রস্তাব উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সংসদের প্রথম দিনের কার্যক্রম সাজানো হয়। এর আগে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন–এর সভাপতিত্বে দিনের প্রথম ভাগে অধিবেশন শুরু হয়। পরে স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার পদে কায়সার কামাল নির্বাচিত হন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি করা হয়। বিরতির সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। এরপর মাইক বিভ্রাট ও নামাজের বিরতির পর বেলা দেড়টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ–এর সভাপতিত্বে আবার অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং পরে একে একে শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
প্রথম দিনের অধিবেশনে খালেদা জিয়াসহ দেশি–বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, বহু সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ–এর বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের দুবারের বিরোধী দলীয় নেতা এবং বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন’ খালেদা জিয়া–কে হারিয়েছে দেশ। তার মৃত্যুতে জাতীয় সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
একই অধিবেশনে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মৃত্যুতে পৃথক শোকপ্রস্তাব আনা হয়। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতিসহ ৬২ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের প্রস্তাবও সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
তালিকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ আরও অনেক সাবেক সংসদ সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সংসদে উপস্থাপিত আরেক শোকপ্রস্তাবে ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করা হয়। সেখানে গুম, ক্রসফায়ার, নির্যাতন ও গণগ্রেপ্তারের শিকার বহু মানুষের কথাও উল্লেখ করা হয়।
একই প্রস্তাবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শহীদমিয়া জননী, মেহেদী হাসান জুনায়েদ এবং ফাইয়াজসহ আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে।
এছাড়া উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ–এ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহতদের প্রতিও শোক জানানো হয়।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা—সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট নুসরাত শারমিন মোরী, উপপরিচালক রিপোর্টিং মোহাম্মদ হুসান, সহকারী পরিচালক গণসংযোগ মাহফুজা বেগম এবং অফিস সহায়ক মো. আব্দুল লতিফের মৃত্যুতে পৃথক শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
এছাড়া দেশের সাংস্কৃতিক, শিক্ষাবিষয়ক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক অঙ্গনের আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির নামও শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, যদি কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে তাদের নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত সংসদ সচিবালয়ে পাঠালে পরবর্তীতে তা শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আনিসুর রহমান জাভেদ
ঠিকানা: নয়াপল্টন, ঢাকা
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন