এ সম্পর্কিত আরও খবর
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি উদ্বোধন
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি সন্তান জন্ম নিলে একটি গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নতুন গাছ রোপণের পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে 'বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে একটি গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে সেই জন্মকে উদযাপন করি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।’
তিনি বলেন, শুধু নতুন গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলো নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় গাছ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর প্রভাব এখন ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, বরং প্রতিদিনের বাস্তবতা। তাই উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ প্রদান করেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।
পরে তিনি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জলপাই, জারুল ও নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
সরকার জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। জিআইএস (GIS), রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বনায়ন কার্যক্রম ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় মাসব্যাপী পরিবেশ ও বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিন, ৫৬টি জেলা শহরে সাত দিন এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
ঠিকানা: ১৩/পি, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড, নাসির পয়েন্ট, ১ম তলা, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © নিউজ এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন